আর্জেন্টিনার ফুটবলের সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম নায়ক অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তারকা এরই মধ্যে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে তাকে আবারও আকাশী-নীল জার্সিতে ফেরার গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবারও আলোচনায় এসেছেন ডি মারিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন সাবেক ফুটবলার দলকে সমর্থন দিতে মাঠে উপস্থিত হলেও সেখানে দেখা যাবে না তাকে।
ফাইনালের আগে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সাবেক সতীর্থদের পাশে দাঁড়াতে নিউ জার্সিতে উপস্থিত হবেন ডি মারিয়া। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ফাইনালে থাকছেন না।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে আলোচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দলের বর্তমান পরিবেশ ও শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান দেখিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ উইঙ্গার।
ডি মারিয়া বলেন, “জাতীয় দলের বর্তমান পরিবেশে আমি কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না। তারা নিজেদের যোগ্যতায় ধাপে ধাপে লড়াই করে ফাইনালে উঠেছে।”
তার মতে, এই মুহূর্তে সব মনোযোগ থাকা উচিত মাঠের খেলোয়াড়দের ওপরই। বাইরে থেকে আসা কোনো বিষয় যেন দলের প্রস্তুতি বা মনোযোগে প্রভাব না ফেলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন।
ডি মারিয়ার এমন সিদ্ধান্তকে তার পরিণত মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম। দলের অন্যতম প্রিয় মুখ ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই তারকা গ্যালারিতে না থাকলেও দূর থেকে দলের পাশে রয়েছেন।
জানা গেছে, লিওনেল মেসি, রদ্রিগো ডি পলসহ সাবেক সতীর্থদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ডি মারিয়া। ভার্চ্যুয়াল আড্ডা ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তার মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দলকে উৎসাহ দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া তার বর্তমান ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের পেশাদার দায়িত্বও যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার অন্যতম কারণ। লাতিন আমেরিকার ঘরোয়া ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।
তবে মাঠে না থাকলেও ডি মারিয়ার স্মৃতি ও অবদান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে। বড় বড় ফাইনালে তার গুরুত্বপূর্ণ গোল ও অসাধারণ পারফরম্যান্স আজও দলটির ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















