রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত স্মার্টফোন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মোবাইল বাজ বিডি (Mobile Buzz BD)-এর বিরুদ্ধে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ভিন্ন সংস্করণের স্মার্টফোন সরবরাহ, মূল্য নিয়ে অসঙ্গতি এবং রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইশতিয়াক আহমেদ লিখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, গত ৩০ জুন তিনি যমুনা ফিউচার পার্কের শোরুম থেকে একটি Redmi Note 14 Pro+ কিনতে যান। প্রথমে ফোনটির দাম ৩১ হাজার ৮০০ টাকা বলা হলেও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও কাস্টমার কেয়ারের তথ্য দেখানোর পর ৩০ হাজার ৫০০ টাকায় ফোনটি বিক্রি করা হয়।
তার অভিযোগ, দুই দিন পর একই ফোনের দাম জানতে চাইলে শোরুমে ৩৩ হাজার টাকার বেশি মূল্য বলা হয়। অথচ পরদিন প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে আবারও ৩০ হাজার ৫০০ টাকা মূল্য জানানো হয়। এতে মূল্য নির্ধারণে অসঙ্গতির অভিযোগ তোলেন তিনি।
ইশতিয়াকের দাবি, তিনি স্পষ্টভাবে চাইনিজ ভ্যারিয়েন্টের একটি অক্ষত (ইনট্যাক্ট) ডিভাইস চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি দেখতে পান, তাকে কথিত ‘চাইনিজ গ্লোবাল’ সংস্করণের একটি ডিভাইস দেওয়া হয়েছে, যেখানে মূল সফটওয়্যারের পরিবর্তে থার্ড-পার্টি রম (ROM) ব্যবহার করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
তিনি আরও বলেন, বাসায় গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন ফোনের বক্সে থাকা মডেল নম্বর ও সফটওয়্যার তথ্যের মধ্যে মিল নেই। এছাড়া ডিভাইসের সিকিউরিটি অ্যাপে প্রথম ব্যবহারের সময় এপ্রিল ২০২৬ দেখানো হয়, যা দেখে তার সন্দেহ হয় ফোনটি আগে ব্যবহৃত বা রিফারবিশড হতে পারে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের সময় ক্যামেরায় ঝাপসা ছবি, অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া এবং সফটওয়্যার আপডেটসংক্রান্ত সমস্যারও মুখোমুখি হন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সাত দিনের রিপ্লেসমেন্ট সময়ের মধ্যেই শোরুমে অভিযোগ জানালেও রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়নি। বরং এক জ্যেষ্ঠ কর্মী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন বলেও দাবি করেন।
এ ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।
যা বলছে মোবাইল বাজ বিডি
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল বাজ বিডি জানায়, সংশ্লিষ্ট ডিভাইসটি আন-অফিশিয়াল ভ্যারিয়েন্ট হওয়ায় প্রস্তুতকারকের কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি প্রযোজ্য ছিল না। তবে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সার্ভিস ও রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর কাস্টমার কেয়ার ও কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম একাধিকবার গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এবং রিপ্লেসমেন্টের প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে সমাধানের অংশ হিসেবে রিপ্লেসমেন্টের পরিবর্তে গ্রাহককে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদকের নাম 




















