দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর ওয়াশিংটনকে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো’ প্রতিক্রিয়া জানাবে। তেহরানের দাবি, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও ইরানের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ইরানের হাতেই থাকবে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানের উপকূলীয় স্থাপনায় মার্কিন হামলা, তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা সংকট এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তবে ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















