ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, ইটপাটকেলে ভাঙচুর রপ্তানি বহুমুখীকরণে বড় সাফল্য, ইসিফরজে প্রকল্পে সৃষ্টি ১ লাখ ৮০ হাজার কর্মসংস্থান ইনানীতে পাঁচতারকা হোটেল কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু, মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৭ পুলিশ; পাল্টা অভিযানে নিহত ৮ হামলাকারী পাবনায় সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে স্কুলশিক্ষিকাকে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার টয়লেটের ট্যাংকি থেকে আলিম পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা: কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার সাময়িক বরখাস্ত নবম পে স্কেল নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী, দ্রুত আসছে প্রজ্ঞাপন অবসরের পর মেসিকে নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার জেরে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফিফার অভিযোগ ডিএমপির তিন থানায় নতুন ওসি, বদলি ৬ পুলিশ পরিদর্শক
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

যেভাবে তরুণদের প্রতিভা বিকাশে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন রাসুল (সা.)

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন

 

ইসলামের ইতিহাসে যুবক ও তরুণ সাহাবিদের অবদান অনন্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু তাদের উৎসাহিতই করেননি, বরং যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে এসব তরুণই পরবর্তীকালে ইসলামের ইতিহাসে প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

তরুণদের মতামতের প্রতি ছিল বিশেষ গুরুত্ব

সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি তরুণরা—এই বাস্তবতাকে মহানবী (সা.) বহু আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি তরুণদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, তাদের চিন্তা-ভাবনাকে মূল্য দিতেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করতেন।

আজকের সমাজে যেখানে অনেক তরুণ নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান না, সেখানে মহানবী (সা.) তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

প্রতিভা চিনে দায়িত্ব দিতেন

তরুণ সাহাবি জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বদর যুদ্ধে অংশ নিতে চাইলেও বয়স কম হওয়ায় মহানবী (সা.) তাকে অনুমতি দেননি। তবে তিনি তার মেধা ও জ্ঞানপিপাসাকে মূল্যায়ন করেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অপেক্ষায় ভারত, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের

রাসুল (সা.) তাকে হিব্রু ও সিরিয়ানি ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই জায়েদ (রা.) মহানবীর অন্যতম লেখক ও দোভাষীতে পরিণত হন।

পরবর্তীতে ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজ শহীদ হওয়ার পর পবিত্র কোরআন সংকলনের মতো ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তার কাঁধেই অর্পণ করা হয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, মহানবী (সা.) তরুণদের যোগ্যতা বুঝে তাদের জন্য সঠিক ক্ষেত্র তৈরি করে দিতেন।

যুবকদের ওপর আস্থা রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন

মুসআব ইবনে উমায়ের (রা.) ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ এক তরুণ সাহাবি। বয়স কম হলেও মহানবী (সা.) তাকে ইসলামের প্রথম দূত হিসেবে মদিনায় পাঠান, যাতে তিনি সেখানকার মানুষকে ইসলামের শিক্ষা দিতে পারেন।

মদিনায় তার সফল দাওয়াতি কার্যক্রমের ফলে অল্প সময়েই আনসারদের অধিকাংশ পরিবার ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়। তরুণদের নেতৃত্বে আস্থার এটি ছিল এক অনন্য উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ  হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির, মৌলভীবাজারের পদযাত্রা স্থগিত

ভুল করা তরুণদের প্রতিও ছিল সহমর্মিতা

এক যুবক একবার মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি তাকে অপমান বা তিরস্কার না করে অত্যন্ত কোমলভাবে বোঝান।

তিনি প্রশ্ন করেন—নিজের মা, বোন কিংবা পরিবারের অন্য কোনো নারীর জন্য এমনটি কি সে পছন্দ করবে? যুবকটি না বললে মহানবী (সা.) একই যুক্তিতে তাকে অন্যের সম্মান রক্ষার গুরুত্ব বোঝান এবং তার জন্য দোয়া করেন।

এই ঘটনার পর ওই যুবক আর কখনো সেই পাপের দিকে ফিরে যাননি।

এ ঘটনা প্রমাণ করে, তরুণদের সংশোধনের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) কঠোরতার পরিবর্তে সহানুভূতি, যুক্তি ও ভালোবাসার পথ অনুসরণ করতেন।

তরুণদের জন্য দোয়া ও মূল্যবান উপদেশ

মহানবীর (সা.) চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ছিলেন জ্ঞানপিপাসু এক কিশোর। তার আগ্রহ দেখে মহানবী (সা.) দোয়া করেছিলেন—

“হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং কোরআনের তাফসির শিক্ষা দিন।” (মুসনাদ আহমাদ)

এই দোয়ার বরকতেই তিনি পরবর্তীকালে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির ও হাদিস বিশারদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ  আগামী সপ্তাহেই স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আরেকটি ঘটনায় সফরের সময় মহানবী (সা.) তাকে বলেন—

“আল্লাহর হুকুমের হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। যখন কিছু চাইবে, আল্লাহর কাছেই চাইবে; সাহায্য চাইলে আল্লাহর কাছেই চাইবে।” (সুনান আত-তিরমিজি)

এই উপদেশ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সারাজীবনের পথচলার মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।

তরুণরাই পরিবর্তনের শক্তি

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বাস করতেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি তাদের মতামতকে মূল্য দিতেন, মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতেন, দায়িত্ব অর্পণ করতেন এবং ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতেন।

বর্তমান সময়েও তরুণদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান শক্তি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, ইটপাটকেলে ভাঙচুর

যেভাবে তরুণদের প্রতিভা বিকাশে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন রাসুল (সা.)

আপডেটের সময়: ০৯:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

ইসলামের ইতিহাসে যুবক ও তরুণ সাহাবিদের অবদান অনন্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু তাদের উৎসাহিতই করেননি, বরং যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে এসব তরুণই পরবর্তীকালে ইসলামের ইতিহাসে প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

তরুণদের মতামতের প্রতি ছিল বিশেষ গুরুত্ব

সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি তরুণরা—এই বাস্তবতাকে মহানবী (সা.) বহু আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি তরুণদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, তাদের চিন্তা-ভাবনাকে মূল্য দিতেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করতেন।

আজকের সমাজে যেখানে অনেক তরুণ নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান না, সেখানে মহানবী (সা.) তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

প্রতিভা চিনে দায়িত্ব দিতেন

তরুণ সাহাবি জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বদর যুদ্ধে অংশ নিতে চাইলেও বয়স কম হওয়ায় মহানবী (সা.) তাকে অনুমতি দেননি। তবে তিনি তার মেধা ও জ্ঞানপিপাসাকে মূল্যায়ন করেন।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজে রাডার বন্ধ করে চলছিল জাহাজ, মাইন বিস্ফোরণ

রাসুল (সা.) তাকে হিব্রু ও সিরিয়ানি ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই জায়েদ (রা.) মহানবীর অন্যতম লেখক ও দোভাষীতে পরিণত হন।

পরবর্তীতে ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজ শহীদ হওয়ার পর পবিত্র কোরআন সংকলনের মতো ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তার কাঁধেই অর্পণ করা হয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, মহানবী (সা.) তরুণদের যোগ্যতা বুঝে তাদের জন্য সঠিক ক্ষেত্র তৈরি করে দিতেন।

যুবকদের ওপর আস্থা রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন

মুসআব ইবনে উমায়ের (রা.) ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ এক তরুণ সাহাবি। বয়স কম হলেও মহানবী (সা.) তাকে ইসলামের প্রথম দূত হিসেবে মদিনায় পাঠান, যাতে তিনি সেখানকার মানুষকে ইসলামের শিক্ষা দিতে পারেন।

মদিনায় তার সফল দাওয়াতি কার্যক্রমের ফলে অল্প সময়েই আনসারদের অধিকাংশ পরিবার ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়। তরুণদের নেতৃত্বে আস্থার এটি ছিল এক অনন্য উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ  চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ

ভুল করা তরুণদের প্রতিও ছিল সহমর্মিতা

এক যুবক একবার মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি তাকে অপমান বা তিরস্কার না করে অত্যন্ত কোমলভাবে বোঝান।

তিনি প্রশ্ন করেন—নিজের মা, বোন কিংবা পরিবারের অন্য কোনো নারীর জন্য এমনটি কি সে পছন্দ করবে? যুবকটি না বললে মহানবী (সা.) একই যুক্তিতে তাকে অন্যের সম্মান রক্ষার গুরুত্ব বোঝান এবং তার জন্য দোয়া করেন।

এই ঘটনার পর ওই যুবক আর কখনো সেই পাপের দিকে ফিরে যাননি।

এ ঘটনা প্রমাণ করে, তরুণদের সংশোধনের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) কঠোরতার পরিবর্তে সহানুভূতি, যুক্তি ও ভালোবাসার পথ অনুসরণ করতেন।

তরুণদের জন্য দোয়া ও মূল্যবান উপদেশ

মহানবীর (সা.) চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ছিলেন জ্ঞানপিপাসু এক কিশোর। তার আগ্রহ দেখে মহানবী (সা.) দোয়া করেছিলেন—

“হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং কোরআনের তাফসির শিক্ষা দিন।” (মুসনাদ আহমাদ)

এই দোয়ার বরকতেই তিনি পরবর্তীকালে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির ও হাদিস বিশারদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ  ২৬ জুলাই বিএনপির আহ্বানের পর রাজপথে সক্রিয় হয় ছাত্রদল

আরেকটি ঘটনায় সফরের সময় মহানবী (সা.) তাকে বলেন—

“আল্লাহর হুকুমের হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। যখন কিছু চাইবে, আল্লাহর কাছেই চাইবে; সাহায্য চাইলে আল্লাহর কাছেই চাইবে।” (সুনান আত-তিরমিজি)

এই উপদেশ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সারাজীবনের পথচলার মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।

তরুণরাই পরিবর্তনের শক্তি

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বাস করতেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি তাদের মতামতকে মূল্য দিতেন, মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতেন, দায়িত্ব অর্পণ করতেন এবং ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতেন।

বর্তমান সময়েও তরুণদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান শক্তি।