রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।
ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















