ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ভারত, ঝাড়খণ্ডে পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে সাড়ে ৪ হাজার বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি চকরিয়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ আশুলিয়ায় নিখোঁজ অটোভ্যান চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার দুই দিনের মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটে নিয়োগ, এইচএসসি পাসেও আবেদনের সুযোগ সৌদি কারখানায় আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রীর শোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ঘনিষ্ঠতম মিত্র: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল, লক্ষ্য সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হওয়া সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ কারণেই সরকারের নীতি হচ্ছে—‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

আরও পড়ুনঃ  বক্স অফিসে ব্যর্থ, ওটিটিতে শীর্ষে মনোজ বাজপেয়ির ‘গভর্নর’

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির মূল ভাবনার বড় কোনো অমিল নেই।

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’-এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘রিকভারি, রিহ্যাবিলিটেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুনঃ  মেসিকে হত্যার হুমকি, আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার তথ্য পুলিশের নথিতে

এই কৌশলের মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সামাজিক সুরক্ষায় একাধিক কর্মসূচি

তারেক রহমান বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত করার দাবি: নাহিদ ইসলাম

এর পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সর্বজনীন করে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ভারত, ঝাড়খণ্ডে পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল, লক্ষ্য সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ০৬:৫২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হওয়া সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে। একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ কারণেই সরকারের নীতি হচ্ছে—‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮১৮

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির মূল ভাবনার বড় কোনো অমিল নেই।

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’-এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘রিকভারি, রিহ্যাবিলিটেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ১৬ বাংলাদেশি

এই কৌশলের মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সামাজিক সুরক্ষায় একাধিক কর্মসূচি

তারেক রহমান বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মেসিকে হত্যার হুমকি, আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার তথ্য পুলিশের নথিতে

এর পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সর্বজনীন করে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।