বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটের জন্য শুধু শিক্ষকদের দায়ী করা ঠিক নয়—এমনটাই উঠে এসেছে শিক্ষাবিদ ড. শোয়াইব জিবরানের বিশ্লেষণে। লেখকের মতে, একটি শিশু তার শেখার বড় অংশ পরিবার, সমাজ ও বাস্তব জীবন থেকে অর্জন করে। ফলে শিক্ষার্থীদের আচরণ, মূল্যবোধ বা শৃঙ্খলার অবনতির দায় এককভাবে শিক্ষকদের ওপর চাপানো বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনের তুলনায় কম। একই সঙ্গে শিক্ষকরা পর্যাপ্ত আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা না পাওয়ায় মেধাবীরা এই পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণও তাদের পেশাগত মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
লেখকের মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় পরীক্ষা ও ফলাফলনির্ভর হয়ে পড়েছে। ভালো গ্রেড অর্জনের প্রতিযোগিতায় প্রকৃত শিক্ষার মান অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সনদ পেলেও বাস্তব দক্ষতায় পিছিয়ে থাকছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা, বেসরকারি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় তদারকির ঘাটতি এবং সমাজের নেতিবাচক প্রভাবও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটকে আরও গভীর করছে।
সমাধান হিসেবে লেখক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষকতার মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, শিক্ষার বিভিন্ন ধারার মধ্যে সমন্বয় তৈরি, বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার এবং শুধু পরীক্ষার ফল নয়, প্রকৃত শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো আসলে বৃহত্তর সামাজিক ও কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন। তাই শুধু শিক্ষকদের দায়ী না করে মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের নাম 




















