ঢাকা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি’, সুগন্ধি চালের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে ৬০–৮০ টাকা শুটিং সেটে আহত রাশমিকা মান্দানা, ছয় সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ চিকিৎসকদের ঢাকার মঞ্চে প্রথমবার গান শোনাবেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী ৪-৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আগস্টে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস, সাগরে একাধিক লঘুচাপের শঙ্কা সাভারে মশাল মিছিলের সময় ৯ জন গ্রেপ্তার, জব্দ ব্যানার-মশাল ও মোটরসাইকেল জয়পুরহাট-নওগাঁর নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানকে ভারতের আহ্বান
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১০ শিল্পগ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

  • arif
  • আপডেটের সময়: ১১:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি ১০টি শিল্পগ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, যৌথ তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেশের অভ্যন্তরে থাকা প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে থাকা আরও ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে যে সম্পদ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে কাজ চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব।’

আরও পড়ুনঃ  প্রেমের বিরোধে কিশোরী তানজিলা হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ঘাতক প্রেমিক

এক প্রশ্নের জবাবে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘আমরা কোনো দল বা মতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারও বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনা পরিবার এবং ১০টি শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে একটি যৌথ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তদন্তাধীন গ্রুপগুলো হলো-এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, নাসা, বসুন্ধরা, ডা. ইকবালের প্রিমিয়ার, সিকদার গ্রুপ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের আরামিট গ্রুপ।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্রকামী সবার সম্মিলিত অবদানের ফল: প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পদ জব্দের পাশাপাশি মামলা দায়ের ও বিদেশে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেনের (এসটিআর) রিপোর্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫ টি। অর্থাৎ, এক বছরে ১২ হাজার ৮৫৪টি বেশি প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যা ৭৪ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

অন্যদিকে একই সময়ে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট সিটিআর হয়েছে ১৯ হাজার ৪৫৪ টি, যা আগের অর্থবছরের ২৩ হাজার ৯০০টি থেকে চার হাজার ৪৪৬টি বা ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ কম।

আরও পড়ুনঃ  আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ ইরানের

বাংলাদেশের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক হিসাব থেকে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন হলে সেটি সিটিআর হিসেবে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হয়।

বিএফআইইউ প্রধান বলেন, সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন এসেছে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। তার ভাষায়, ‘আগে ব্যাংকগুলো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাঠাতে ভয় পেত। এখন সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে রিপোর্টিং বেড়েছে। কেউ সন্দেহজনক লেনদেন করলে তিনি যে-ই হোন, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি’,

শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১০ শিল্পগ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

আপডেটের সময়: ১১:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি ১০টি শিল্পগ্রুপের দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, যৌথ তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেশের অভ্যন্তরে থাকা প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে থাকা আরও ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে যে সম্পদ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে কাজ চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব।’

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন কারাগারে

এক প্রশ্নের জবাবে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘আমরা কোনো দল বা মতের দিকে তাকাই না। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারও বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনা পরিবার এবং ১০টি শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে একটি যৌথ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তদন্তাধীন গ্রুপগুলো হলো-এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, নাসা, বসুন্ধরা, ডা. ইকবালের প্রিমিয়ার, সিকদার গ্রুপ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের আরামিট গ্রুপ।

আরও পড়ুনঃ  ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৩, উদ্ধার মাদক ও স্বর্ণালংকার

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পদ জব্দের পাশাপাশি মামলা দায়ের ও বিদেশে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেনের (এসটিআর) রিপোর্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫ টি। অর্থাৎ, এক বছরে ১২ হাজার ৮৫৪টি বেশি প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যা ৭৪ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

অন্যদিকে একই সময়ে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট সিটিআর হয়েছে ১৯ হাজার ৪৫৪ টি, যা আগের অর্থবছরের ২৩ হাজার ৯০০টি থেকে চার হাজার ৪৪৬টি বা ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ কম।

আরও পড়ুনঃ  প্রেমের বিরোধে কিশোরী তানজিলা হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ঘাতক প্রেমিক

বাংলাদেশের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক হিসাব থেকে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন হলে সেটি সিটিআর হিসেবে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হয়।

বিএফআইইউ প্রধান বলেন, সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন এসেছে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। তার ভাষায়, ‘আগে ব্যাংকগুলো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাঠাতে ভয় পেত। এখন সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে রিপোর্টিং বেড়েছে। কেউ সন্দেহজনক লেনদেন করলে তিনি যে-ই হোন, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’