চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ, তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারী ও দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে দুই পক্ষ। কর্মসূচি ঘিরে গত দুই দিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয় পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন। অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাবের কাছাকাছি হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে দুই পক্ষ। কাজী সালাউদ্দিনের দাবি, আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ককটেল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিস্থলে অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে তার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেন।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির জন্য তারা কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন। তার দাবি, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মুন স্টার ক্লাবে হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের নেতা-কর্মীরা কোথাও ককটেল বিস্ফোরণ বা হামলা করেননি; বরং সালাউদ্দিনের অনুসারীরাই বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।
প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ
সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে দুপুর ২টার দিকে কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের নেতা-কর্মীরা সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সীতাকুণ্ড থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল নিয়ে সীতাকুণ্ডের দিকে চলে যান।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
সাময়িক বন্ধ মিনিবাস চলাচল
সংঘর্ষ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের অলংকার-সীতাকুণ্ড রুটে মিনিবাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাস ও হিউম্যান হলার মালিক সমিতি।
সংগঠনটির চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. খোরশেদ আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং যানবাহন রক্ষায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই রুটে যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আহতদের বিষয়ে যা জানা গেছে
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের হামলায় দুজন আহত হওয়ার তথ্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিবেদকের নাম 


















