১১ অক্টোবর ২০২৬
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭টি বিষয় চিহ্নিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিগ্যামের গবেষকেরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি সাময়িকীতে।
গবেষকদের মতে, দৈনন্দিন অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার মাধ্যমে এসব রোগের কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে ঝুঁকির কারণ থাকলেই যে কারও এসব রোগ হবে, এমন নয়।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭টি ঝুঁকির বিষয়
গবেষণায় স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন শারীরিক, মানসিক ও জীবনযাপনগত বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. উচ্চ রক্তচাপ
২. কিডনি রোগ
৩. রক্তে শর্করার মাত্রার সমস্যা
৪. উচ্চ কোলেস্টেরল
৫. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন
৭. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
৮. নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত
৯. শ্রবণশক্তি হ্রাস
১০. দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ব্যথা
১১. অতিরিক্ত মানসিক চাপ
১২. ধূমপান
১৩. জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের অভাব
১৪. সামাজিক যোগাযোগের ঘাটতি
প্রতিবেদনে এসব বিষয়ের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হলেও, সব ১৭টি বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হয়নি।
ছোট পরিবর্তনেও উপকার হতে পারে
গবেষণার প্রধান লেখক ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ব্রেন কেয়ার ল্যাবসের গবেষক ডা. সঞ্জুলা সিংয়ের মতে, জীবনযাত্রার সব অভ্যাস একসঙ্গে বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের রুটিনে এক থেকে তিনটি সহজ পরিবর্তন এনে সেগুলো নিয়মিত চর্চা করা কার্যকর হতে পারে।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে—
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং খাবারে লবণের পরিমাণ সীমিত রাখা।
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি রাখা।
- নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
- শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা।
- পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা।
উপসর্গের অপেক্ষা না করে সচেতনতা জরুরি
গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় কোনো উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই যত্ন নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে উপকার করতে পারে।
তবে কোনো ঝুঁকির কারণ দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।
প্রতিবেদকের নাম 




















