ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার ১৬ আগস্ট শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, চার বছরে সুবিধা পাবেন ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার জনগণের দাবি জানাতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি: জামায়াত আমির বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সৌদি সরকারের বর্ষায় রান্নাঘরের এই ভুলগুলো বাড়াতে পারে পেটের অসুখের ঝুঁকি শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের অনেকে দেশের বাইরে শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা পেল ইসি, শিগগির আসছে তফসিল ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা প্রবীণ নেতার জনগণের অধিকার আদায়ে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা জামায়াত আমিরের
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব’, বক্তব্যে স্পিকারের ঐতিহাসিক দাবি

 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউন (অপারেশন সার্চলাইট) শুরুর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

স্পিকার বলেন, তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, “আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো ভূমিকা থাকুক এটি আমি চাই না।” সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

আরও পড়ুনঃ  নতুন ফ্যাসিবাদের চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়বে: জামায়াত আমির

তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। “এটিই হলো প্রকৃত সত্য।”

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়। তার ভাষায়, রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চান এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে নিখোঁজ শিশু, এক বছর ধরেও সন্তানের অপেক্ষায় মা

আলোচনায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুনঃ  হৃদয় ঝড়ের পর খরুচে সাকিব, ৪৭০ রানের ম্যাচ জিতে ফাইনালে জাফনা

তিনি বলেন, “আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।”

এ ছাড়া তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

আলোচনার শেষাংশে স্পিকার পুনরায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাহসী প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ের অন্যতম ভিত্তি এবং এই ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব’, বক্তব্যে স্পিকারের ঐতিহাসিক দাবি

আপডেটের সময়: ০৬:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউন (অপারেশন সার্চলাইট) শুরুর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি তিনি।

শনিবার (১১ জুলাই) রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

স্পিকার বলেন, তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, “আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো ভূমিকা থাকুক এটি আমি চাই না।” সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

আরও পড়ুনঃ  আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। “এটিই হলো প্রকৃত সত্য।”

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়। তার ভাষায়, রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চান এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

আরও পড়ুনঃ  হৃদয় ঝড়ের পর খরুচে সাকিব, ৪৭০ রানের ম্যাচ জিতে ফাইনালে জাফনা

আলোচনায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুনঃ  রুশ সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ৭

তিনি বলেন, “আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।”

এ ছাড়া তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

আলোচনার শেষাংশে স্পিকার পুনরায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাহসী প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ের অন্যতম ভিত্তি এবং এই ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।