হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া হাজার হাজার নাবিককে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)। দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ১১ হাজারের বেশি নাবিক বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে আটকা পড়েছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে ধাপে ধাপে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে জানান, এটি একটি অত্যন্ত জটিল অভিযান, যা ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্রসহ উপকূলীয় দেশ এবং আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে চলাচলের পরিবেশ পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে কৌশলগত এই প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে পড়ে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিপিং পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, গত সোমবার একদিনেই অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্রে জাহাজের ভিড় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে আইএমওর পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নৌপথ পুনরায় স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যৌথ মিশনও গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
প্রতিবেদকের নাম 















