ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো: আইনমন্ত্রী চরাঞ্চলের ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩০ বিয়ের আশ্বাসে সম্পর্ক, গর্ভপাতের অভিযোগ; প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত ছিনতাইকারীর টানে প্রাণ গেল শিক্ষিকার লং মার্চে এত তেল আসবে কোথা থেকে, বিরোধীদের প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন প্রতিমন্ত্রী জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে হুমকিদাতারা আজ দেশ ছেড়ে পলাতক: সমাজকল্যাণমন্ত্রী শেরপুর সীমান্তে দুই অভিযানে ১০ লাখ টাকার বেশি ভারতীয় মদ জব্দ ২৪ ঘণ্টার ভোগান্তির পর স্বস্তি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

১০ বছর পর খুলছে গোস্সা নিবারণী পার্ক

 

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কাজ চললেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি রাজধানীর ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন প্রকল্প। এরই মধ্যে পার্কটি উদ্বোধন করে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সময় দিলে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

নগরবাসীর মানসিক চাপ ও বিরক্তি কমানোর লক্ষ্যেই ২০১৬ সালে ওসমানী উদ্যানকে আধুনিক করে ‘গোস্সা নিবারণী পার্ক’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৮ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় দুটিই বাড়ে। নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার পর প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেটিও পূরণ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৫ জেলেকে উদ্ধারে তৎপরতা

ডিএসসিসির প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পার্কের মূল কাজ প্রায় শেষ। ধোয়ামোছা ও পানির পাম্প বসানোর মতো কিছু ছোটখাটো কাজ বাকি রয়েছে। উদ্বোধনের তারিখ জানা গেলে দ্রুত এসব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

থাকছে নানা সুবিধা

প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে থাকা উদ্যানের একটি অংশে তৈরি করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো। সেখানে গাড়ি পার্কিং, ১২টি ছোট ফুডকোর্ট, ব্যায়ামের জায়গা, শিশুদের খেলার স্থান, লাইব্রেরি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও টয়লেট রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগর জাদুঘরের জন্যও একটি জায়গা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢা বি তে এবি জুবায়েরের উদ্যোগে যাত্রীছাউনি ও সড়ক সংস্কার

তবে সরেজমিনে পার্কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কিছু জায়গা চায়ের দোকান ও ভ্যানের গ্যারেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

পার্কের পাশে আধুনিক করা লেক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও লেকে পানি নেই এবং বিভিন্ন জায়গায় আগাছা দেখা গেছে। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, পাম্পের মাধ্যমে পানি দিলে লেক ভরে যাবে। তবে প্রকল্পের নকশাকার স্থপতি রফিক আজম বলেছেন, মাটির গুণাগুণের কারণে লেকে পানি ধরে রাখা কঠিন। এ জন্য লেকের নিচে ত্রিপল ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

কংক্রিট বাড়ায় আপত্তি

ওসমানী উদ্যানের উন্নয়নে অতিরিক্ত কংক্রিটের অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন পরিবেশবাদী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মজুমদারের দাবি, একটি উদ্যানে সীমিত পরিমাণ অবকাঠামো থাকা উচিত। কিন্তু ওসমানী উদ্যানে অবকাঠামোর পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী থাকলেও পেশাগত মান নিয়ে সংশয়: আইনমন্ত্রী

এ ছাড়া উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ৯০ ফুট উঁচু স্তম্ভ, প্ল্যাটফর্ম, ভাস্কর্য ও হাঁটার পথ তৈরির কথা রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আরও গাছ কাটতে হতে পারে এবং পার্কে কংক্রিটের পরিমাণ বাড়বে।

তবে স্থপতি রফিক আজমের দাবি, তার করা নকশায় কোনো গাছ কাটার প্রয়োজন হয়নি। বরং বিদ্যমান গাছ রেখেই লেকের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর পার্কটি খুলে দেওয়া হলেও, অসম্পূর্ণ কাজ, লেকের পানি ও অতিরিক্ত কংক্রিট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনের আগে বাকি কাজগুলো কতটা ঠিকভাবে শেষ করা যায়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো: আইনমন্ত্রী

১০ বছর পর খুলছে গোস্সা নিবারণী পার্ক

আপডেটের সময়: ১২:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

 

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কাজ চললেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি রাজধানীর ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন প্রকল্প। এরই মধ্যে পার্কটি উদ্বোধন করে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সময় দিলে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

নগরবাসীর মানসিক চাপ ও বিরক্তি কমানোর লক্ষ্যেই ২০১৬ সালে ওসমানী উদ্যানকে আধুনিক করে ‘গোস্সা নিবারণী পার্ক’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৮ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় দুটিই বাড়ে। নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার পর প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেটিও পূরণ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের পরই মস্কোয় সিআইএ প্রধান, গোপন বৈঠক ঘিরে নানা জল্পনা

ডিএসসিসির প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পার্কের মূল কাজ প্রায় শেষ। ধোয়ামোছা ও পানির পাম্প বসানোর মতো কিছু ছোটখাটো কাজ বাকি রয়েছে। উদ্বোধনের তারিখ জানা গেলে দ্রুত এসব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

থাকছে নানা সুবিধা

প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে থাকা উদ্যানের একটি অংশে তৈরি করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো। সেখানে গাড়ি পার্কিং, ১২টি ছোট ফুডকোর্ট, ব্যায়ামের জায়গা, শিশুদের খেলার স্থান, লাইব্রেরি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও টয়লেট রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগর জাদুঘরের জন্যও একটি জায়গা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৫ জেলেকে উদ্ধারে তৎপরতা

তবে সরেজমিনে পার্কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কিছু জায়গা চায়ের দোকান ও ভ্যানের গ্যারেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

পার্কের পাশে আধুনিক করা লেক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও লেকে পানি নেই এবং বিভিন্ন জায়গায় আগাছা দেখা গেছে। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, পাম্পের মাধ্যমে পানি দিলে লেক ভরে যাবে। তবে প্রকল্পের নকশাকার স্থপতি রফিক আজম বলেছেন, মাটির গুণাগুণের কারণে লেকে পানি ধরে রাখা কঠিন। এ জন্য লেকের নিচে ত্রিপল ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

কংক্রিট বাড়ায় আপত্তি

ওসমানী উদ্যানের উন্নয়নে অতিরিক্ত কংক্রিটের অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন পরিবেশবাদী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মজুমদারের দাবি, একটি উদ্যানে সীমিত পরিমাণ অবকাঠামো থাকা উচিত। কিন্তু ওসমানী উদ্যানে অবকাঠামোর পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢা বি তে এবি জুবায়েরের উদ্যোগে যাত্রীছাউনি ও সড়ক সংস্কার

এ ছাড়া উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ৯০ ফুট উঁচু স্তম্ভ, প্ল্যাটফর্ম, ভাস্কর্য ও হাঁটার পথ তৈরির কথা রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আরও গাছ কাটতে হতে পারে এবং পার্কে কংক্রিটের পরিমাণ বাড়বে।

তবে স্থপতি রফিক আজমের দাবি, তার করা নকশায় কোনো গাছ কাটার প্রয়োজন হয়নি। বরং বিদ্যমান গাছ রেখেই লেকের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর পার্কটি খুলে দেওয়া হলেও, অসম্পূর্ণ কাজ, লেকের পানি ও অতিরিক্ত কংক্রিট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনের আগে বাকি কাজগুলো কতটা ঠিকভাবে শেষ করা যায়।