পরীক্ষা স্বাভাবিক আবহাওয়া ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে আয়োজনসহ ৬ দফা দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত অবরোধ চলায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকাগামী যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক বন্ধ থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আন্দোলনের অধিকার থাকলেও সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
ব্যবসায়ী যতীন কর্মকার বলেন, পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার জন্য সাধারণ মানুষ দায়ী নয়। তাই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে দাবি আদায়ের বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কারও প্রবেশপত্র বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে, আবার কেউ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র ও হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুল ছিল এবং প্রশ্নের মান বোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় কঠিন হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি
- স্বাভাবিক আবহাওয়া ও উপযুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন।
- বোর্ডের মান অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং অযৌক্তিকভাবে কঠিন প্রশ্ন পরিহার।
- পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র ও হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া অথবা গ্রেস মার্ক দিয়ে মূল্যায়ন।
- যৌক্তিক কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা।
- ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য ফল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু।
- শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের প্রকাশ্য জবাবদিহি এবং প্রয়োজন হলে পদত্যাগ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়নি এবং কিছু প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরের ছিল। একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলেও একটি বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও অন্য বোর্ডগুলোতে তা হয়নি, যা বৈষম্যমূলক।
তিনি আরও বলেন, সমস্যাগুলোর সমাধান না করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের নাম 




















