টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
বন্যার সারসংক্ষেপ
- ক্ষতিগ্রস্ত জেলা: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, মৌলভীবাজারসহ মোট ৭ জেলা
- প্লাবিত উপজেলা: ৫৯টি
- পানিবন্দী পরিবার: ২,৬৭,৯১৮টি
- ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ: ১০,২২,৯৬৩ জন
- মোট মৃত্যু: ৫১ জন
জেলাভিত্তিক প্রাণহানির তথ্য
- কক্সবাজার: ২৮ জন
- চট্টগ্রাম: ১৩ জন
- বান্দরবান: ৬ জন
- রাঙামাটি: ৩ জন
- মৌলভীবাজার: ১ জন
চট্টগ্রামে ভয়াবহ পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার বহু এলাকা এখনো পানির নিচে। অনেক স্থানে:
- কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে,
- খাদ্যশস্য ও ফসল নষ্ট হয়েছে,
- নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের অবস্থা
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদর উপজেলার অনেক এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন করে লোকালয়ে পানি ঢুকছে এবং নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।
এদিকে তিন পার্বত্য জেলায় পানি নামতে শুরু করলেও সামনে আসছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। গ্রামীণ সড়ক, সেতু, জুমচাষ, আমন-আউশের বীজতলা ও সবজিক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২–৩ দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মতে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় আগামী এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সিলেট অঞ্চলের পরিস্থিতি নির্ভর করবে পরবর্তী বৃষ্টিপাতের ওপর।
সার্বিকভাবে, বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমতে শুরু করলেও লাখো মানুষ এখনো নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















