নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।
রোববার (১২ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করবে আইএমএফ। এদিন সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্ভাব্য নতুন বেতনকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে।
সরকার তিন বছর মেয়াদি নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মোকাবিলা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৈঠকে দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের অগ্রগতি, আয়কর ও ভ্যাট সংস্কার, কর-ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার পরিকল্পনা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সার্বিক পরিস্থিতিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়েও আলাদা মূল্যায়ন করবে আইএমএফ। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা, বর্তমান বেতনকাঠামো, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হতে পারে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও পৃথক পর্যালোচনা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর আর্থিক অবস্থা, প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি এবং পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তাসহ পুরো জ্বালানি খাতের অর্থনৈতিক প্রবাহ বিশ্লেষণ করবে সংস্থাটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত, অগ্রাধিকার এবং সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকারও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি আইএমএফের সামনে তুলে ধরবে।
ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















