ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগকে ঘিরে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রুমিন ফারহানার কিছু বক্তব্য আওয়ামী লীগঘেঁষা বলে মনে করছেন অনেকে। এমনকি কেউ কেউ তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ বলেও মন্তব্য করছেন। এ বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চাইলে রুমিন বলেন, ‘না, আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।’
রুমিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, গত এক বছরে যারা তার বক্তব্য পছন্দ করছেন, তাদের একটি অংশ আবার অভিযোগ করছেন—তিনি আওয়ামী লীগের ‘ন্যারেটিভ’ ধরে রাখার কাজ করছেন এবং দলটিকে বাঁচিয়ে রাখছেন।
জবাবে রুমিন বলেন, অভিযোগগুলো সত্য ধরে নিলে তিনি যেন একটি ‘লাইফ সেভিং মেশিন’। তার ভাষায়, বিএনপি যখন আইসিইউতে যায়, তখন তিনি বিএনপিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন; আবার আওয়ামী লীগ যখন আইসিইউতে যায়, তখন আওয়ামী লীগকেও বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
এরপর খালেদ মুহিউদ্দীন আবার প্রশ্ন করেন, তিনি যেহেতু সবসময় বিএনপির রাজনীতি করেছেন, তাহলে আওয়ামী লীগকে কেন রক্ষা করবেন—গোপনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন কি না।
জবাবে রুমিন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘না, আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।’ তবে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ দুর্বল হয়ে পড়ার পর তাকে আঘাত করা কাপুরুষোচিত। তার মতে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত সাহসের পরিচয়।
রুমিন বলেন, আওয়ামী লীগ যখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, তখন যারা এখন সমালোচনা করছেন, তাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তাদের সমালোচনা করা কি ঠিক হতো—সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তার বক্তব্য আওয়ামী লীগের পক্ষে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন, তিনি মূলত যার প্রতি অন্যায় হচ্ছে, তার পক্ষেই কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন, তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না।’ তার মতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে একই ধরনের অন্যায় করা উচিত নয়।
রুমিন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যদি অন্যায় করে থাকে এবং সে কারণেই তাদের সরানো হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে একই ধরনের অন্যায় করা হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমানদের পার্থক্য থাকে না। তিনি মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণে যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের উচিত এখন অন্য কারও ওপর একই ধরনের অন্যায় হলে তারও প্রতিবাদ করা।
তার ভাষায়, ‘আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নিই—তার মানে আমি আসলে ন্যায়কে সমর্থন করি না।’ তিনি বলেন, ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদকের নাম 



















