নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নেপালের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৫৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৭৫। তারা ৩৬টি দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১৮৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন এবং ইউক্রেনের ৬২ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-চীন সীমান্তের হিমালয় এলাকায় হিমবাহ ধসের পর হঠাৎ করে ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চীন ও নেপালের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংও এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বন্যার পর পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হলেও পরে আবার তা শুরু করা হয়।
নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও চীনের প্রায় ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা। দুর্গতদের কাছে খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।
সূত্র: বিবিসি
প্রতিবেদকের নাম 




















