সেপ্টেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়।
একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। নতুন দর সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে টানা কয়েক মাস এলপিজির দাম বাড়ার পর জুলাইয়ে কিছুটা কমানো হয়েছিল। তবে আগস্টে আবারও দাম বাড়ে। চলতি মাসে সেই দাম থেকে সামান্য কমানো হলো।
দুই দফায় বেড়েছিল ৫৯৯ টাকা
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বড় অঙ্কে বাড়ানো হয়েছিল। ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৭২৭ টাকা করা হয়। এর মাত্র ১৭ দিন পর ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
অর্থাৎ ওই দুই দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বেড়েছিল।
পরে জুন মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা করা হয়েছিল।
বাজারে দামের অস্থিরতা
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। মার্চ মাসে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে ওই সময় বাজারে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে এলপিজি বিক্রির তথ্যও পাওয়া যায়।
এলপিজি সংকটকে কেন্দ্র করে আমদানিকারকদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে আমদানিসীমা বাড়ানো, কর কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার পাশাপাশি ফ্রেইটচার্জ বা জাহাজ ভাড়া প্রতি টনে ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। আমদানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এসব পদক্ষেপের পরও বাজারে দামের অস্থিরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে এলপিজির দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়েছিল, সৌদি আরবের এলপিজির দামের ওঠানামার সঙ্গে দেশের ভিত্তিমূল্যও সমন্বয় করা হবে।
এ ছাড়া অন্যান্য কমিশন, জাহাজ ভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
সেই ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
প্রতিবেদকের নাম 




















