ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

“এক মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না শ্রমিকের মজুরি—তানোরে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে”

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন ও শ্রমিক খরচের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধান বিক্রি করে এখন একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ (প্রায় ২৮ কেজি) নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে ৪০ কেজির মণ হিসেবে দাম থাকছে ১১০০ থেকে ১১২০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ধান কাটার শ্রমিকদের মজুরি দিন দিন বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  গভীর রাতে শেকৃবি ক্যাম্পাসে পরপর দুই ককটেল বিস্ফোরণ

ধান কাটার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা আধা দিনের কাজের জন্য প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং পূর্ণ দিনের জন্য ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষকের আয়ের চেয়ে শ্রমিক ব্যয় বেশি হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকট, বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং ধান মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। এতে খরচ আরও বেড়ে গেছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ-সড়ক অবরোধ, বন্ধ দুই রুটের ট্রেন চলাচল

কৃষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় ধান বিক্রি করা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও সেখানে নানা জটিলতা ও অনানুষ্ঠানিক খরচ থাকায় অনেকেই হাট-বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

একাধিক কৃষক আরও জানান, শুধু ধান নয়, আগের আলু মৌসুমেও তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কপ৩১ সম্মেলনে ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিগগিরই ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দাবি, ন্যায্যমূল্যে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা না হলে প্রান্তিক কৃষকরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

“এক মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না শ্রমিকের মজুরি—তানোরে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে”

আপডেটের সময়: ০৮:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন ও শ্রমিক খরচের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধান বিক্রি করে এখন একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তারা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ (প্রায় ২৮ কেজি) নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে ৪০ কেজির মণ হিসেবে দাম থাকছে ১১০০ থেকে ১১২০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ধান কাটার শ্রমিকদের মজুরি দিন দিন বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিটে তথ্য সচিবের বক্তব্য

ধান কাটার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা আধা দিনের কাজের জন্য প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং পূর্ণ দিনের জন্য ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষকের আয়ের চেয়ে শ্রমিক ব্যয় বেশি হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকট, বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং ধান মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। এতে খরচ আরও বেড়ে গেছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ

কৃষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় ধান বিক্রি করা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও সেখানে নানা জটিলতা ও অনানুষ্ঠানিক খরচ থাকায় অনেকেই হাট-বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

একাধিক কৃষক আরও জানান, শুধু ধান নয়, আগের আলু মৌসুমেও তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আরামকো টাওয়ারে আঘাতের দাবি

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিগগিরই ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দাবি, ন্যায্যমূল্যে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা না হলে প্রান্তিক কৃষকরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।