দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাতেও বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৯ম গ্রেডের বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। ফলে এ গ্রেডে প্রবেশকারী বিসিএস কর্মকর্তারাও নতুন কাঠামোর আওতায় পড়বেন।
তিন ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে মূল বেতন একবারে নয়, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীরাও এর আওতায় থাকবেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
মূল গেজেটের সঙ্গে পৃথক এসআরও
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে মূল গেজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক ৫ থেকে ৭টি এসআরও জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন আদেশ থাকবে।
গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার ‘আইবাস++’-এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজও চলছে। নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় বেতন পুনর্নির্ধারণ ও নতুন হিসাব কাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে।
পেনশনেও বাড়বে সুবিধা
নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও ধাপে ধাপে সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশনধারীদের ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
থাকছে নতুন কিছু ভাতা
নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও থাকছে।
এক নজরে নবম পে-স্কেল
- কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬
- গ্রেড: ২০টি
- সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা
- সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
- ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধি: ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা
- ১ম গ্রেডে বৃদ্ধি: ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
- ৯ম গ্রেড: ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা
- মূল বেতন বাস্তবায়ন: তিন ধাপে
- অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে
- প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: মাসে ৩ হাজার টাকা
- উপকারভোগী: প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার পেনশনভোগী ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী
- অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয়: আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা
প্রতিবেদকের নাম 



















