চুরির চেষ্টার অভিযোগে বাজারের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা ছিলেন বাবা। অভুক্ত বাবার কাছে ছুটে এসে এক কাপ চা ও রুটি তুলে দিয়েছিল ছোট্ট মেয়ে তুবা। নিজের হাতে রুটি টুকরো করে বাবাকে খাওয়ানোর সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বদলে যেতে শুরু করেছে অনিক সিকদার ও তার পরিবারের পরিস্থিতি।
বরিশালের উজিরপুরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনা নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। পরে রোববার অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা। অনিককে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তুবার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে অনিক যাতে কাজ করে সংসার চালাতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে উজিরপুরের বামরাইল বাজারে চুরির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে অনিকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে তার ছোট্ট মেয়ে তুবা বাবার কাছে ছুটে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় এক কাপ চা ও রুটি। এরপর নিজের হাতে বাবাকে খাবার খাওয়ায় সে।
অনিকের স্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অভাবের কারণে তাদের সংসারে নানা সংকট চলছিল। একসময় পরিবারটি স্বচ্ছল থাকলেও বাবার অসুস্থতার পর চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ও সম্পদ হারাতে হয়। পরে সংসারে আরও নানা সমস্যা তৈরি হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি মাদকচক্র তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। তবে মেয়েটি এসবের বিচার করার বয়সে নেই। বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখে সে শুধু তার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ক্ষুধার্ত বাবাকে নিজের হাতে খাবার খাইয়েছে।
সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এরপরই অনিকের পরিবারকে সহায়তায় এগিয়ে আসে উপজেলা প্রশাসন।
অনিকের কর্মসংস্থানের জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশনও। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাকে একটি ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আয় করে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য এসএম আকবর বলেন, অনিকের প্রয়োজনের সময়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা ও সহমর্মিতা অব্যাহত রাখা হবে।
অনিক সিকদার বলেন, তার কোনো ভুল হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে আর কোনো অন্যায় করবেন না। কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে চান তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 




















