দুর্গাপূজা কিংবা অন্য কোনো উৎসবে ঢাকাই জামদানি শাড়ির আলাদা কদর রয়েছে। নকশার সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের কারণে অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে এই শাড়ি। তবে বাজারে হাতে বোনা জামদানির পাশাপাশি মেশিনে তৈরি শাড়িও পাওয়া যায়। তাই কেনার সময় আসল জামদানি চেনার কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
শাড়ির উল্টো দিক দেখুন
আসল জামদানি চেনার অন্যতম সহজ উপায় হলো শাড়ির উল্টো দিক ভালোভাবে দেখা। মেশিনে তৈরি শাড়ির উল্টো পাশে অনেক সময় কাটা বা ছাঁটা সুতা দেখা যায়। এমন সুতা থাকলে সেটি হাতে বোনা জামদানি নয় বলেই ধরে নেওয়া যায়।
অন্যদিকে হাতে বোনা জামদানিতে তাঁতিরা একটি একটি করে সুতা ঘুরিয়ে নকশা তৈরি করেন। ফলে শাড়ির উল্টো পাশে সাধারণত এভাবে কাটা সুতা দেখা যায় না।
দুই পাশ প্রায় একই রকম
আসল ঢাকাই জামদানির বুনন এমনভাবে করা হয় যে শাড়ির সামনের ও পেছনের দিক আলাদা করে বোঝা কঠিন হতে পারে। হাতে বোনা নকশা দুই পাশেই প্রায় সমানভাবে ফুটে ওঠে। কেনার সময় শাড়িটি হাতে নিয়ে দুই দিক ভালোভাবে দেখে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।
বুননের সূক্ষ্মতা খেয়াল করুন
আসল ঢাকাই জামদানির বুনন সাধারণত খুব সূক্ষ্ম ও মিহি হয়। নকশাগুলোও থাকে নিখুঁত ও পরিপাটি। শাড়ির কাপড় হাতে নিলে মসৃণ অনুভূতি পাওয়া যায়।
মেশিনে তৈরি জামদানি তুলনামূলক ভারী ও কিছুটা খসখসে হতে পারে। এসব শাড়িতে নাইলনের সুতা ব্যবহারের কারণে বুননের অনুভূতিতেও পার্থক্য থাকে।
নকশার দিকে নজর দিন
হাতে বোনা জামদানির নকশায় সূক্ষ্মতা ও কারুকাজ স্পষ্ট থাকে। শাড়ি কেনার সময় শুধু রং বা নকশার সৌন্দর্য না দেখে বুননের ধরনও পরীক্ষা করা উচিত।
তাই পূজার কেনাকাটায় ঢাকাই জামদানি নিতে চাইলে শাড়িটি কেনার আগে একবার উল্টে দেখুন, দুই পাশের বুনন মিলিয়ে নিন এবং কাপড়ের মসৃণতা ও নকশার সূক্ষ্মতা খেয়াল করুন। এসব লক্ষণ দেখে হাতে বোনা জামদানি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সহজ হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























