
ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক ধরনের কার্বোহাইড্রেট খাদ্যতালিকায় রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দিলে শুরুতে শরীরের জমে থাকা পানি কমার কারণে দ্রুত ওজন কমতে পারে। শরীরে সঞ্চিত কিছু কার্বোহাইড্রেটও তখন ভাঙতে থাকে। তবে কার্বোহাইড্রেটকে ওজন বাড়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
কার্বোহাইড্রেট কেন প্রয়োজন
ফ্যাট বিপাকের জন্যও কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন হয়। শরীরে ফ্যাট ভেঙে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজের ভূমিকা রয়েছে। গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনের অন্যতম প্রধান উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট।
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও গ্লুকোজ প্রয়োজন। পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট না পেলে মাথা ঝিমঝিম বা দুর্বল লাগতে পারে। এ ছাড়া দৈনন্দিন চলাফেরা এবং হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কার্বোহাইড্রেট থেকে পাওয়া শক্তি কাজে লাগে।
মেদ কমাতে কোন কার্বোহাইড্রেট খাবেন
ওজন নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে উপকারী হলো জটিল বা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। যেসব খাবারে খাদ্যআঁশ বেশি এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেগুলো ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
ওটস ও ডালিয়া: এতে দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান থাকে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
লাল চাল ও কুইনোয়া: সাদা চালের তুলনায় এসব খাবারে খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে।
আটার রুটি: ময়দার বদলে গমের আটা বা ভুসিযুক্ত আটা দিয়ে তৈরি রুটি খাওয়া যেতে পারে। রাগি, জোয়ার ও বাজরার আটাও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
ডাল ও রাজমা: মসুর, মুগ, ছোলার ডাল ও রাজমায় কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও খাদ্যআঁশ রয়েছে।
সবুজ শাকসবজি: পালংশাক, ব্রোকলি, রাঙা আলু, গাজর, ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে খাদ্যআঁশ রয়েছে এবং অনেকগুলোর কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক কম।
যেসব খাবার কমানো ভালো
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, সাদা পাউরুটি, ময়দার তৈরি খাবার ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানো যেতে পারে। এসব খাবারে পরিশোধিত বা সিম্পল কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে।
তাই মেদ কমানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ না দিয়ে খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদকের নাম 

























