
রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যালয়টি ঘিরে অবস্থান নেয় যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ।
শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি দাবি করেন, ঢাকার কোথাও আওয়ামী লীগ ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মিছিল-মিটিং ঠেকাতে মহানগর যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নয়ন বলেন, সকালে আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে মিছিল করার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, জাসদ কার্যালয়ে জাসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে সভা করছেন।
তবে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার কথা উল্লেখ করে নয়ন বলেন, সেখানে থাকা ব্যক্তিদের ওপর কেউ যাতে হামলা না করে, সেদিকে তারা নজর রাখছেন। তার ভাষ্য, কার্যালয়ে থাকা নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও তরুণদের গায়ে হাত দেওয়া হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের থানায় নেওয়ার সিদ্ধান্তে যুবদল সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দল ও যুবদল আইন নিজের হাতে তুলে নেয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ সময় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নিয়েও মন্তব্য করেন নয়ন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই জোটের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বোমা হামলা করছে। এ বিষয়ে বিএনপি জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন—এমন অভিযোগে নয়ন ও পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন। পরে সেখানে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন।
বিকেলে জাসদ কার্যালয় থেকে একে একে বেশ কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যায় পুলিশ।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, জাসদ কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং বহিরাগতদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে বৈঠক চলছিল বলেও সন্দেহ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অভিযান তখনও চলছিল।
প্রতিবেদকের নাম 




















