যুক্তরাজ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে হঠাৎ বাড়িঘর খালি করে দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় বিস্ফোরক-সংক্রান্ত আইনে অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের হুইলফোর্ড এলাকায় এ ঘটনাকে ‘বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করে পুলিশ। কাছাকাছি RAF Fairford ঘাঁটিটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি হলেও এটি মার্কিন বিমানবাহিনীও ব্যবহার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হুইলফোর্ডের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে।
ঘটনার পর বিমানঘাঁটির প্রধান প্রবেশপথের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয় এবং আশপাশে জরুরি সেবার বেশ কয়েকটি গাড়ি অবস্থান নেয়।
কী কারণে আটক?
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহ রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে কি না কিংবা ঘটনাটির সঙ্গে বিমানঘাঁটির সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে তারা কাজ করছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রতিক্রিয়া
মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত। তবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ব্রিটেনে থাকা মার্কিন ইউনিটগুলো সতর্ক রয়েছে এবং সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
ইরান প্রসঙ্গ কেন আসছে?
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বর্তমানে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে, কারণ ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে সেখানে মার্কিন বোমারু বিমানও অবস্থান করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও রোববারের গ্রেপ্তারের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দেয়নি। একইভাবে বিমানঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের মূল বক্তব্য হলো—বিস্ফোরক-সংক্রান্ত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছেন। তদন্ত এগোলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















