মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর পরই শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৯ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার দুই ট্রাক মালামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনার পর ডিএমপি কমিশনারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়ায়।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার সময় পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে এর আগে প্রশ্ন ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, হামলা ও লুটপাটের সময় ঘটনাস্থলের বাইরে পুলিশের একটি গাড়ি ছিল এবং কিছু মালামাল পিকআপে তোলা হচ্ছিল।
শাহ আলী থানার তৎকালীন ওসিও হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে তখন কেন হামলা ঠেকানো বা তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তার বক্তব্য, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই—অপরাধী হিসেবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রেও শুধু বদলি নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগীয় ও নিয়মিত মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কার কী ভূমিকা ছিল, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















