ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’, ফেসবুক পোস্টে চিকিৎসক ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি পুনর্গঠনের দাবি নাহিদ ইসলামের টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে বসানো ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড চার-পাঁচ ঘণ্টার পথেই পাকা পেঁপে, নান্দাইলে কৃত্রিমভাবে পাকানোর অভিযোগ স্বামীর বাধা পেরিয়ে ইংরেজি শেখালেন যশোদা, প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া প্রবাসীদের ভোটে বাংলাদেশের পোস্টাল মডেল অনুসরণ করতে চায় নেপাল সৌদির দুই বিমানবন্দর ও চার সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

৩৮ বছরেই ১৫৬ অসহায় মেয়ের ‘বাবা’ সিরাজগঞ্জের মামুন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:২৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অভিভাবকহীন ও দরিদ্র মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে দেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে এসব মেয়ের ‘বাবা’ বলে ডাকেন।

শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা মামুন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজের পরিচিতজনদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। এভাবে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন মামুন।

আরও পড়ুনঃ  নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় এনসিপির মিছিলে পুলিশের বাধা

সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই অসহায় মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ায় আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন মামুন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই অর্থ দিয়ে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এর মাত্র ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে একাধিকবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মামুনের উদ্যোগে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  জমি বিরোধের জেরে কৃষক হত্যা, ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

মামুনের এই উদ্যোগ শুধু কামারখন্দেই সীমাবদ্ধ নয়। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় ও অভিভাবকহীন মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তার সহযোগিতায় বিয়ে হওয়া মেয়েরা নতুন সংসার শুরু করেছেন। তাদের নিজের মেয়ের মতোই দেখেন মামুন।

নিজের ভূমিকা সম্পর্কে মামুন বিশ্বাস বলেন, ১৫৬টি বিয়েসহ তার করা সব মানবিক ও ভালো কাজের কৃতিত্ব ফেসবুকের বন্ধুদের। তিনি শুধু উদ্যোগ নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মিঠামইনে আগুনে পুড়ল বসতঘর ও সারের গুদাম, ক্ষতি ১ কোটি ২০ লাখ টাকা

জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে অসহায় ও অভিভাবকহীন সন্তানদেরও সম্মানের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব—মামুন বিশ্বাস তা করে দেখিয়েছেন।

শুধু বিয়ের আয়োজনেই থেমে নেই মামুনের মানবিক কর্মকাণ্ড। অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, খাবার বিতরণ, গবাদিপশু ও দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও রয়েছে তার। নিজের গ্রামেও তিনি গড়ে তুলেছেন পাখির অভয়াশ্রম।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’, ফেসবুক পোস্টে চিকিৎসক

৩৮ বছরেই ১৫৬ অসহায় মেয়ের ‘বাবা’ সিরাজগঞ্জের মামুন

আপডেটের সময়: ০৬:২৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অভিভাবকহীন ও দরিদ্র মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে দেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে এসব মেয়ের ‘বাবা’ বলে ডাকেন।

শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা মামুন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজের পরিচিতজনদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। এভাবে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন মামুন।

আরও পড়ুনঃ  মেয়ের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা

সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই অসহায় মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ায় আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন মামুন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই অর্থ দিয়ে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এর মাত্র ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে একাধিকবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মামুনের উদ্যোগে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, বন্ধ ইলিশ ধরা ও বিক্রি

মামুনের এই উদ্যোগ শুধু কামারখন্দেই সীমাবদ্ধ নয়। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় ও অভিভাবকহীন মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তার সহযোগিতায় বিয়ে হওয়া মেয়েরা নতুন সংসার শুরু করেছেন। তাদের নিজের মেয়ের মতোই দেখেন মামুন।

নিজের ভূমিকা সম্পর্কে মামুন বিশ্বাস বলেন, ১৫৬টি বিয়েসহ তার করা সব মানবিক ও ভালো কাজের কৃতিত্ব ফেসবুকের বন্ধুদের। তিনি শুধু উদ্যোগ নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাট সীমান্তে তিন যুবককে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে অসহায় ও অভিভাবকহীন সন্তানদেরও সম্মানের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব—মামুন বিশ্বাস তা করে দেখিয়েছেন।

শুধু বিয়ের আয়োজনেই থেমে নেই মামুনের মানবিক কর্মকাণ্ড। অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, খাবার বিতরণ, গবাদিপশু ও দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও রয়েছে তার। নিজের গ্রামেও তিনি গড়ে তুলেছেন পাখির অভয়াশ্রম।