
পূজার ছুটিতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও মেয়ে। নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া আক্তারের (৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহিদুলের স্ত্রী ও ছেলে এখনো তাঁদের মৃত্যুর খবর জানেন না।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বাড়ির আঙিনায় পাশাপাশি তাঁদের দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবা-মেয়ের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে থানা-সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের বাড়ি।
একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শহিদুলের স্ত্রী মোসা. রুবিনা আক্তার (৪০) ও ছেলে লাবিব (১১) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে স্বামী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর এখনো তাঁদের জানানো হয়নি। এর আগে তাঁদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
নিহত শহিদুলের বড় ভাই মো. ফারুক হাওলাদার জানান, পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল। গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্ত্রী রুবিনা, মেয়ে তাছফিয়া ও ছেলে লাবিবকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে স্বামীর কর্মস্থল মাগুরায় যান রুবিনা। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন শহিদুল।
পথে নাটোরে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের বহনকারী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়ার মৃত্যু হয়।
ফারুক হাওলাদার বলেন, একটি দুর্ঘটনায় তাঁদের পরিবারের সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। তাঁর ভাই ও ভাতিজি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। অন্যদিকে শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা ও ছেলে লাবিব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাঁদের এখনো মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।
গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩২ জন।
বাবা-মেয়ের জানাজা ও দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান। তিনি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পুলিশ নিজ উদ্যোগে খোঁজখবর নিয়েছে এবং জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা দিয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 
























