ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনায় আলোচনায় আসা শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের পর এবার তাঁর স্বামী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকেও বদলি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে কর্মস্থলে তাঁদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
একজন দক্ষিণে, অন্যজন উত্তরের বিদ্যালয়ে
বদলির আদেশ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে উত্তরের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের বদলির আদেশ দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাঁকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে ধারণ করা ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ
জানা গেছে, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ একপর্যায়ে কর্মস্থলেও প্রভাব ফেলে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে তাঁদের প্রকাশ্যে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার দাবি
ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাঁকেও অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে। শিক্ষক দম্পতির মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাটি ছিল। ঘটনার দিন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের এক সাবেক সহকর্মীর মাধ্যমে ভিডিওটি বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ওই শিক্ষক চাকরি ছেড়ে ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 























