
কাপ্তাই হ্রদের পানি কমায় টানা একমাস দুদিন পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে রাঙ্গামাটির সিম্বল অব আইকন খ্যাত ঝুলন্ত সেতু। এরই মধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। ফলে সেতু ঘিরে ফিরেছে চেনা ব্যস্ততা, স্বস্তি ফিরেছে পর্যটকদের মাঝেও।
জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এই পর্যটন স্থাপনা আবারও দৃশ্যমান হওয়ায় উচ্ছ্বাসিত দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কখন তলিয়ে গিয়েছিল সেতুটি?
আলোক বিকাশ চাকমা জানান, চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ সেপ্টেম্বর পানিতে তলিয়ে যায় সেতুটি। নিরাপত্তার কারণে ওই দিনই বন্ধ করা হয় পর্যটকদের প্রবেশ।
একমাস পর গত ১২ অক্টোবর পানি সরতে শুরু করলে সংস্কার শেষে তুলে নেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় এই জনপ্রিয় স্থাপনা।
প্রতি বছরই একই সমস্যা
তবে সেতু ভেসে ওঠার এই দৃশ্য নতুন নয়। প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় রাঙ্গামাটি পর্যটনের অন্যতম প্রধান এই আকর্ষণ।
গত বছরও টানা ৮৫ দিন পানির নিচে ছিল সেতুটি। এতে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানে পড়েন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ঝুলন্ত সেতু সম্পর্কে কিছু তথ্য
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পর ১৯৮৬ সালে নির্মিত ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের দৃষ্টিনন্দন এই ঝুলন্ত সেতুতে বছরে প্রায় ১০ লাখের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন।
দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুটি দেখতে জলপথে ও স্থলপথে যেকোনো মাধ্যমে সহজে যাওয়া যায়।
জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশ ফি থেকে বাৎসরিক আয়ের অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকার বেশি। অথচ প্রতি বর্ষায় পানির নিচে হারিয়ে যায় এই আকর্ষণ, একসঙ্গে বিরূপ প্রভাব পড়ে পর্যটন খাতে।
তাই বারবার সাময়িকভাবে ‘খোলা-বন্ধের ঘোষণার’ বদলে পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদকের নাম 























