ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভারতের প্রধান নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝা, নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক ‘আমার কপালে সারাজীবন ঝামেলাই লেখা’: পরীমনি এফডিআই বাড়লেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৪.৭৭ শতাংশ ‘স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অব্যাহতি চেয়েছি’, পদত্যাগের কারণ জানালেন ইশরাক একই দিনে চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা, নিরাপত্তায় ২০ হাজার সদস্য আওয়ামী লীগ পরিচয় দিলে ভিক্ষাও নিতেন না মকবুল, বার্ধক্যে মানবেতর জীবন দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাহিদকে উদ্দেশ করে ইশরাকের বক্তব্য, ‘মামলা করে দেন, নিজেই জেলে চলে যাব’ নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৩, আহত অন্তত ২৫ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাইফুলকে আধুনিক কৃত্রিম পা সংযোজন
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আওয়ামী লীগ পরিচয় দিলে ভিক্ষাও নিতেন না মকবুল, বার্ধক্যে মানবেতর জীবন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীন পশ্চিমপাড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী মকবুল হোসেন প্রামানিক। এলাকায় তিনি পরিচিত ‘মকবুল ফকির’ নামে। পেশায় ভিক্ষুক হলেও বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের কেউ পরিচয় দিলে তাঁর কাছ থেকে ভিক্ষাও নিতেন না বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

তবে বয়সের ভারে এখন আর চলাফেরা করতে পারেন না মকবুল। অসুস্থ স্ত্রী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তাঁর দিন কাটছে চরম অভাব-অনটনে। জীর্ণ টিনের ঘরের বারান্দায় শুয়ে থাকা এই বৃদ্ধের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই পরিবারের।

ভাঙাচোরা ঘরে কাটছে দিন

সরেজমিনে দেখা যায়, মকবুল ফকিরের বাড়িতে রয়েছে ভাঙাচোরা টিনের ঘর। পাটকাঠি ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা বারান্দার ছাপড়ার নিচে ছোট একটি চৌকিতে শুয়ে আছেন তিনি। সেখানে নেই তোশক কিংবা বালিশ। বাড়িতে নেই কোনো টয়লেটও।

আরও পড়ুনঃ  ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা: কোন বিভাগে ফরম পূরণে কত টাকা লাগবে

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না মকবুল। দীর্ঘদিন চৌকিতে শুয়ে থাকায় তাঁর পিঠ ও পায়ে ঘা হয়েছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানোও সম্ভব হয়নি।

মকবুলের স্ত্রী মালেকা খাতুনও অসুস্থ। তাঁদের দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী। বড় মেয়ে মর্জিনা খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে তাঁর ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থেই কোনোমতে পরিবারের খরচ চলে।

‘বিএনপি করেই মরতে চাই’

বার্ধক্যের কারণে কথা বলতে কষ্ট হয় মকবুলের। প্রতিবেদককে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া অমর হোক। খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ। আমি বিএনপি করি। বিএনপি ছাড়া কখনো কাউকে ভোট দিইনি। আমি বিএনপি করেই মরতে চাই।’

আরও পড়ুনঃ  সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে প্রাণ গেল ফুফুর, শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

মকবুলের স্ত্রী মালেকা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী ভিক্ষুক হলেও বিএনপির কট্টর সমর্থক ছিলেন। বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলের নামও তিনি সহ্য করতে পারতেন না।

মালেকার অভিযোগ, বিএনপির সমর্থক হওয়ার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি। দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসার চালানো তাঁদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে বড় মেয়ের ভিক্ষার টাকায় পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে।

দারিদ্র্যের মধ্যেও চালের দান প্রত্যাখ্যানের দাবি

আরও পড়ুনঃ  অনুমোদন ছিল না, অনিরাপদ ঘোষণার পরও চালু ছিল টুপটুপ রিসোর্ট

হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মকবুল বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক। তাঁর দাবি, একবার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা মকবুলকে এক মণ চাল দিতে চেয়েছিলেন। বিনিময়ে তাঁকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মকবুল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, মকবুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন। মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটির দুর্ভোগ কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বার্ধক্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা মকবুল ফকিরের পরিবারের এখন প্রয়োজন চিকিৎসা ও মৌলিক সহায়তা। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের প্রধান নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝা, নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

আওয়ামী লীগ পরিচয় দিলে ভিক্ষাও নিতেন না মকবুল, বার্ধক্যে মানবেতর জীবন

আপডেটের সময়: ০৯:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীন পশ্চিমপাড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী মকবুল হোসেন প্রামানিক। এলাকায় তিনি পরিচিত ‘মকবুল ফকির’ নামে। পেশায় ভিক্ষুক হলেও বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের কেউ পরিচয় দিলে তাঁর কাছ থেকে ভিক্ষাও নিতেন না বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

তবে বয়সের ভারে এখন আর চলাফেরা করতে পারেন না মকবুল। অসুস্থ স্ত্রী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তাঁর দিন কাটছে চরম অভাব-অনটনে। জীর্ণ টিনের ঘরের বারান্দায় শুয়ে থাকা এই বৃদ্ধের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও নেই পরিবারের।

ভাঙাচোরা ঘরে কাটছে দিন

সরেজমিনে দেখা যায়, মকবুল ফকিরের বাড়িতে রয়েছে ভাঙাচোরা টিনের ঘর। পাটকাঠি ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা বারান্দার ছাপড়ার নিচে ছোট একটি চৌকিতে শুয়ে আছেন তিনি। সেখানে নেই তোশক কিংবা বালিশ। বাড়িতে নেই কোনো টয়লেটও।

আরও পড়ুনঃ  ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তার

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না মকবুল। দীর্ঘদিন চৌকিতে শুয়ে থাকায় তাঁর পিঠ ও পায়ে ঘা হয়েছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানোও সম্ভব হয়নি।

মকবুলের স্ত্রী মালেকা খাতুনও অসুস্থ। তাঁদের দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী। বড় মেয়ে মর্জিনা খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে তাঁর ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থেই কোনোমতে পরিবারের খরচ চলে।

‘বিএনপি করেই মরতে চাই’

বার্ধক্যের কারণে কথা বলতে কষ্ট হয় মকবুলের। প্রতিবেদককে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া অমর হোক। খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ। আমি বিএনপি করি। বিএনপি ছাড়া কখনো কাউকে ভোট দিইনি। আমি বিএনপি করেই মরতে চাই।’

আরও পড়ুনঃ  দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় উত্তরের তিন জেলায় ২৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

মকবুলের স্ত্রী মালেকা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী ভিক্ষুক হলেও বিএনপির কট্টর সমর্থক ছিলেন। বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলের নামও তিনি সহ্য করতে পারতেন না।

মালেকার অভিযোগ, বিএনপির সমর্থক হওয়ার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি। দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসার চালানো তাঁদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে বড় মেয়ের ভিক্ষার টাকায় পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে।

দারিদ্র্যের মধ্যেও চালের দান প্রত্যাখ্যানের দাবি

আরও পড়ুনঃ  পূজার লম্বা ছুটিতে কাপ্তাইয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটকের সমাগমের আশা

হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মকবুল বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক। তাঁর দাবি, একবার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা মকবুলকে এক মণ চাল দিতে চেয়েছিলেন। বিনিময়ে তাঁকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মকবুল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, মকবুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন। মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটির দুর্ভোগ কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বার্ধক্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা মকবুল ফকিরের পরিবারের এখন প্রয়োজন চিকিৎসা ও মৌলিক সহায়তা। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।