ঢালিউডের অভিনেত্রী পরীমনি আবারও আলোচনায় এসেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেও বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় একটি শোরুম উদ্বোধনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পরীমনি। জীবনে বারবার বিতর্ক ও ঝামেলার মুখে পড়া প্রসঙ্গে হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘আমার কপালে মনে হয় এটাই লেখা, সারাজীবন ঝামেলা হবে আর ঝামেলা নিয়েই যাব। এটা আমি মেনে নিয়েছি। এখন বিষয়গুলো আমার ভালোই লাগে, এনজয় করি।’
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস
এর আগে ফেসবুক লাইভে এসে ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পরীমনি। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘সবাই যখন আমার সাহসকে সম্মান জানায়, তখন আরও বেশি সাহস পাই। তখন মনে হয়, আমি সঠিক পথেই আছি।’
এআই দিয়ে হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের ডিজিটাল হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরীমনি। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু পরিচিত বা জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ নারীরাও এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরীমনি বলেন, ‘বিষয়টা অনেক বেশি সেনসিটিভ। আমার মতো মানুষের এটা গায়েই লাগানোর কথা না। প্রথম তিন-চার দিন তো আমি বিষয়টি পাত্তাই দিইনি। কিন্তু যখন দেখলাম এটা আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন কথা বলতে বাধ্য হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনো সাধারণ মেয়ের সঙ্গে ঘটলে তার ওপর মানসিক চাপের প্রভাব গুরুতর হতে পারে। তাই ডিজিটাল হয়রানি ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানানো জরুরি।
প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা এবং নারীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে এ ঘটনায়।
প্রতিবেদকের নাম 

























