যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ডলারের দর দুর্বল হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে দেশটির সরকারি বন্ডের নামমাত্র ও প্রকৃত সুদের হার কমে যাওয়াও স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৬ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৩১ ডলার ২৪ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৪১ ডলার ৪০ সেন্টে লেনদেন হচ্ছিল।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, ডলারের দুর্বলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের নামমাত্র ও প্রকৃত সুদের হারে উল্লেখযোগ্য পতন স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য অনিশ্চিত ও সংঘাতমুখী নীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
মার্কিন নির্বাচন ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক সাফল্যের খবরের পর দেশটির শেয়ারবাজারের ফিউচার দর কমেছে। বিপরীতে সরকারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ডলারের দর দুর্বল হয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনো অনিশ্চিত থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমন সম্ভাবনা বাজারে প্রভাব ফেলছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা এখনো অনেক দূরে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি এ কথা বলেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। এ সম্ভাবনা ৭৮ শতাংশ।
সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
এ কারণে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পে-রোলস বা কৃষি খাতের বাইরের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, প্রতি আউন্স স্বর্ণের ৪ হাজার ডলারকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধস্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই স্তরের ওপরে বা নিচে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে।
কমেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম
এদিকে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৮৯ ডলার ৫৪ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯২৮ ডলার ২৩ সেন্ট হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
প্রতিবেদকের নাম 




















