
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালক রুমনকে (২৩) হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর একটি আঁখক্ষেত থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।
পাঁচ দিন পর মিলল মরদেহ
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট ভোরে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন শিবগঞ্জ উপজেলার মোহনবাগ এলাকার বাসিন্দা রুমন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে ওয়াসিম ও রফিকুল আলমকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে রুমনকে হত্যার তথ্য বেরিয়ে আসে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমর ফারুকের বাড়ি থেকে রুমনের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
৭০ হাজার টাকায় বিক্রি অটোরিকশা
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার পর রুমনের অটোরিকশাটি উমর ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়। অটোরিকশাটির মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও সেটি ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওয়াসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে পুটিমারী বিলের একটি আঁখক্ষেত থেকে রুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহটি বেশ ক্ষতবিক্ষত ও গলিত অবস্থায় ছিল। পরনের পোশাক, বেল্ট, স্যান্ডেল ও মোবাইল ফোন দেখে রুমনের স্ত্রী মরদেহটি শনাক্ত করেন।
জব্দ হয়েছে হাসুয়া ও অন্যান্য আলামত
গ্রেফতার তিনজন হলেন—ওয়াসিম, রফিকুল আলম ও উমর ফারুক।
তাদের কাছ থেকে রুমনের অটোরিকশা, হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাসুয়া, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই রুমনকে হত্যা করা হয়।
মামলা হয়েছে, চলছে তদন্ত
উদ্ধারের পর রুমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিবেদকের নাম 




















