আজ ৫ আগস্ট, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন এবং দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। দিনটিকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৪ জেলায় জুলাই শহিদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আন্দোলনের শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক শাসনের অবসান ঘটে। তিনি শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ, আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে এবং দেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন মতের মানুষ এবং সাধারণ জনগণ নির্যাতন, গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, পোশাকশ্রমিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান এবং হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন। পরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় একই ধরনের আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওতে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। প্রকাশ করা হবে স্মারক ডাকটিকিট। সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘরগুলো দিনভর বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্রেও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার, পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















