ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা

 

টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা এবং বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। অবশিষ্ট পরীক্ষা পেছানোসহ সাত দফা দাবিতে দিনভর কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা আদায় করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘এইচএসসি-২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরে একপর্যায়ে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক খুলে নিয়ে যান। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। ফটক খুলে নেওয়ার ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিষপানের পর হাসপাতালে শিক্ষার্থী

বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, প্রশ্নপত্রের মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের ন্যায্য মূল্যায়ন, প্রশ্ন প্রণয়নে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র পুনঃইস্যুর সুযোগ এবং অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন রুটিন প্রকাশ।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস সংকটে বেড়েছে লোডশেডিং, শিল্প ও আবাসিক খাতে চরম ভোগান্তি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম শাকিল বলেন, বিকেল ৩টার মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা আদায় করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার বহু পরীক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এরপরও পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি আমলে না নেওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতির দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে যাত্রী ও পরিবহন খাত

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা

আপডেটের সময়: ০৯:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা এবং বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। অবশিষ্ট পরীক্ষা পেছানোসহ সাত দফা দাবিতে দিনভর কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা আদায় করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘এইচএসসি-২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরে একপর্যায়ে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক খুলে নিয়ে যান। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। ফটক খুলে নেওয়ার ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিষপানের পর হাসপাতালে শিক্ষার্থী

বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, প্রশ্নপত্রের মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের ন্যায্য মূল্যায়ন, প্রশ্ন প্রণয়নে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র পুনঃইস্যুর সুযোগ এবং অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন রুটিন প্রকাশ।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম শাকিল বলেন, বিকেল ৩টার মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা আদায় করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  গণতন্ত্র টিকলে এগোবে বাংলাদেশ, স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে: ডিএসসিসি প্রশাসক

বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার বহু পরীক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এরপরও পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি আমলে না নেওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।