ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শেরপুরে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু পেন্টাগনের সঙ্গে এআই চুক্তির প্রতিবাদে গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ ময়মনসিংহে হামে মোট মৃত্যু অর্ধশত, নতুন ভর্তি আরও ১৯ আগস্টে রূপপুর থেকে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বার কাউন্সিল এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাইমা রহমান বিশ্বকাপের উন্মাদনায় শোবিজ, কোন তারকার প্রিয় দল কোনটি? খুলনা-বরিশালের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক বিশ্বকাপে প্রথম আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড গড়লেন প্যারাগুয়ের বোবাডিলা কথিত বড় ভাইয়ের ফোন না ধরায় অফিসে ঢুকে হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ওটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

  • Arif
  • আপডেটের সময়: ০৯:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৬ সময় দেখুন

জমির ‘মৌজা রেট’ নির্ধারণের কাজ চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সেটা হয়ে গেলে “কালো টাকা সাদা করার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।”
ওটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

বাজেটে এবারও ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রাখার সমালোচনা হলেও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান একে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ বলে মানতে রাজি নন।

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।”

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ নিয়ে প্রতিবারই বাজেটের সময় আলোচনা সমালোচনা হয়। এবার যেন সেই সুযোগ না থাকে, সেই দাবি বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, তার বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে কিছু ছিল না। তবে অর্থবিলে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সে সমুযোগ ঠিকই রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে তা ‘সমর্থনযোগ্য নয়’।

বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই সে প্রসঙ্গ আসে। একজন সাংবাদিক বলেন, “ভালো বাজেটের কালো দিক কালো টাকা। এই সুযোগটা না রেখে বাজেটকে কালো টাকা মুক্ত করা যেত কি না।”

সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তর দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, একটি বিষয় বুঝতে ‘ভুল’ হচ্ছে।

“আমরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ উনার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, উনি জমি বিক্রি করেছেন ৫ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১ কোটি টাকায়। বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে উনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

“সে কারণে আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ করেছিলাম যে, উনি যদি বাকি ৪ কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে উনার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং উনার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে উনি ওটার উপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫% গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন।”

আব্দুর রহমান বলেন, “এটা আমরা গতবারই করেছি, এটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে একটা ফ্ল্যাট উনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হল ৩ কোটি টাকায়।

“আমাদের ট্যাক্সের লোকজন উনাকে গিয়ে আবার চেইজ করে যে, আপনার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার উপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়।”

তাদের ‘একটু রিলিফ দেওয়ার জন্য’ এবার বাজেটে নতুন বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “যদি উনারা নিজেদের থেকে ডিক্লেয়ার করেন, যাতে করে উনি ২০% এক্সট্রা দিয়ে, রেগুলার ট্যাক্সের প্লাস ১৫% এক্সট্রা দিয়ে, যাতে এটা দেখাতে পারেন।

“আর যাদের নিজের টাকা আছে অলরেডি, যার ট্যাক্স দেওয়ার টাকা আছে, হোয়াইট মানি আছে, তাকে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এরকম একটা প্রভিশন আছে, তবে এটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, আমার মনে হয় স্যাররা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।”

আরও পড়ুনঃ  অর্থবছরের ২০ দিন বাকি থাকতেই ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স

 

পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “এই যে মৌজা রেটের বিষয়টা, যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা কাজ করছি যেহেতু আমরা সময় পাই নাই, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে, অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি।

“মৌজা রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার উপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজা রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি। আমরা মৌজা রেটগুলো একটা রিয়েল ভ্যালুতে আনার চেষ্টা করছি যাতে করে ওই কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।”

তিনি বলেন, “এটা দীর্ঘ একটা কাজ। এখানে কিন্তু সারা বাংলাদেশের একটা সার্ভে করতে হবে, মৌজাভিত্তিক করতে হবে। এখানে একটা মৌজার বাজারের এক মূল্য, তারপরে ধানের একেবারে চাষবাসের জায়গার আরেকটা মূল্য। এই সার্ভেটা আমরা করতে যাচ্ছি এবং এটা কমপ্লিট হলে মৌজা রেটটা যখন মার্কেট রেটের সাথে আমরা নিয়ে আসতে পারব, তখন কালো টাকা সাদা করার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।”

অর্থবিলে কী আছে

অর্থবিলে বলা হয়েছে, “এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ‘স্বপ্রণোদিতভাবে’ প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর ‘উৎস’ এবং ইহার বিপরীতে ‘পরিশোধিত করের’ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।”

এ বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে–কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের উপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন।

আরও পড়ুনঃ  পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দুই বিশ্বনেতা

অর্থাৎ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যেভাবে একটা ধাপ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা থাকে, তারপর বিভিন্ন ধাপে আয় হলে তার ওপর করহার পরিবর্তন হয়, এক্ষেত্রেও তাইই হবে।

একইভাবে যিনি বিক্রি করে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিক হবেন এবং বৈধ করতে চাইবেন তার জন্যও বিধান রাখা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘বিক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা ‘অধিক’ হলে, তিনি ‘অপ্রদর্শিত’ ওই অতিরিক্ত অঙ্কের উপর ‘মূলধনী মুনাফা’র জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করবেন।

অর্থাৎ তিনি এই জমি যখন কিনেছেন তখন যে মূল্য ছিল এবং তিনি যে টাকায় বিক্রি করেছেন এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকবে সেটিই তার মুনাফা। এবং এই আয়ের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

তবে এক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার অপ্রদর্শিত অর্থ ‘স্বপ্রণোদিত’ বৈধ করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, তাহলে তখনও তিনি এ অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তার সেই অর্থের ওপর তখন যে কর ধার্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে তাকে।

অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য আয়কর বিবরণী বা রিটার্নের ‘জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী’তে ‘উৎসে কর্তিত’ বা ‘সংগৃহীত কর’ উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমেই কর্মকর্তারা বুঝতে পারবেন এবং তাকে এ নিয়ে আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না।

তবে তার এই ‘স্বপ্রণোদিত’ ঘোষণার আগেই যদি বাংলাদেশের কোনো আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলে বা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়-তাহলে তিনি এই সুযোগ আর গ্রহণ করতে পারবেন না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

শেরপুরে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ওটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

আপডেটের সময়: ০৯:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জমির ‘মৌজা রেট’ নির্ধারণের কাজ চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সেটা হয়ে গেলে “কালো টাকা সাদা করার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।”
ওটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

বাজেটে এবারও ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রাখার সমালোচনা হলেও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান একে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ বলে মানতে রাজি নন।

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।”

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ নিয়ে প্রতিবারই বাজেটের সময় আলোচনা সমালোচনা হয়। এবার যেন সেই সুযোগ না থাকে, সেই দাবি বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, তার বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে কিছু ছিল না। তবে অর্থবিলে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সে সমুযোগ ঠিকই রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে তা ‘সমর্থনযোগ্য নয়’।

বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই সে প্রসঙ্গ আসে। একজন সাংবাদিক বলেন, “ভালো বাজেটের কালো দিক কালো টাকা। এই সুযোগটা না রেখে বাজেটকে কালো টাকা মুক্ত করা যেত কি না।”

সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তর দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, একটি বিষয় বুঝতে ‘ভুল’ হচ্ছে।

“আমরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ উনার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, উনি জমি বিক্রি করেছেন ৫ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১ কোটি টাকায়। বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে উনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন।

আরও পড়ুনঃ  চিকিৎসক ও রোগীকে প্রতিপক্ষ বানানো যাবে না: ডা. রফিক

“সে কারণে আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ করেছিলাম যে, উনি যদি বাকি ৪ কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে উনার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং উনার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে উনি ওটার উপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫% গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন।”

আব্দুর রহমান বলেন, “এটা আমরা গতবারই করেছি, এটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে একটা ফ্ল্যাট উনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হল ৩ কোটি টাকায়।

“আমাদের ট্যাক্সের লোকজন উনাকে গিয়ে আবার চেইজ করে যে, আপনার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার উপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়।”

তাদের ‘একটু রিলিফ দেওয়ার জন্য’ এবার বাজেটে নতুন বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “যদি উনারা নিজেদের থেকে ডিক্লেয়ার করেন, যাতে করে উনি ২০% এক্সট্রা দিয়ে, রেগুলার ট্যাক্সের প্লাস ১৫% এক্সট্রা দিয়ে, যাতে এটা দেখাতে পারেন।

“আর যাদের নিজের টাকা আছে অলরেডি, যার ট্যাক্স দেওয়ার টাকা আছে, হোয়াইট মানি আছে, তাকে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এরকম একটা প্রভিশন আছে, তবে এটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, আমার মনে হয় স্যাররা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।”

আরও পড়ুনঃ  এবার বাগেরহাটে ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশু, ধর্ষক গ্রেপ্তার

 

পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “এই যে মৌজা রেটের বিষয়টা, যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা কাজ করছি যেহেতু আমরা সময় পাই নাই, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে, অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি।

“মৌজা রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার উপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজা রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি। আমরা মৌজা রেটগুলো একটা রিয়েল ভ্যালুতে আনার চেষ্টা করছি যাতে করে ওই কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।”

তিনি বলেন, “এটা দীর্ঘ একটা কাজ। এখানে কিন্তু সারা বাংলাদেশের একটা সার্ভে করতে হবে, মৌজাভিত্তিক করতে হবে। এখানে একটা মৌজার বাজারের এক মূল্য, তারপরে ধানের একেবারে চাষবাসের জায়গার আরেকটা মূল্য। এই সার্ভেটা আমরা করতে যাচ্ছি এবং এটা কমপ্লিট হলে মৌজা রেটটা যখন মার্কেট রেটের সাথে আমরা নিয়ে আসতে পারব, তখন কালো টাকা সাদা করার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।”

অর্থবিলে কী আছে

অর্থবিলে বলা হয়েছে, “এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ‘স্বপ্রণোদিতভাবে’ প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর ‘উৎস’ এবং ইহার বিপরীতে ‘পরিশোধিত করের’ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।”

এ বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে–কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের উপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন।

আরও পড়ুনঃ  জুনেই পে-স্কেলের গেজেট, গ্রেড ও পেনশন নিয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

অর্থাৎ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যেভাবে একটা ধাপ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা থাকে, তারপর বিভিন্ন ধাপে আয় হলে তার ওপর করহার পরিবর্তন হয়, এক্ষেত্রেও তাইই হবে।

একইভাবে যিনি বিক্রি করে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিক হবেন এবং বৈধ করতে চাইবেন তার জন্যও বিধান রাখা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘বিক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা ‘অধিক’ হলে, তিনি ‘অপ্রদর্শিত’ ওই অতিরিক্ত অঙ্কের উপর ‘মূলধনী মুনাফা’র জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করবেন।

অর্থাৎ তিনি এই জমি যখন কিনেছেন তখন যে মূল্য ছিল এবং তিনি যে টাকায় বিক্রি করেছেন এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকবে সেটিই তার মুনাফা। এবং এই আয়ের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

তবে এক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার অপ্রদর্শিত অর্থ ‘স্বপ্রণোদিত’ বৈধ করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, তাহলে তখনও তিনি এ অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তার সেই অর্থের ওপর তখন যে কর ধার্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে তাকে।

অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য আয়কর বিবরণী বা রিটার্নের ‘জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী’তে ‘উৎসে কর্তিত’ বা ‘সংগৃহীত কর’ উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমেই কর্মকর্তারা বুঝতে পারবেন এবং তাকে এ নিয়ে আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না।

তবে তার এই ‘স্বপ্রণোদিত’ ঘোষণার আগেই যদি বাংলাদেশের কোনো আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলে বা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়-তাহলে তিনি এই সুযোগ আর গ্রহণ করতে পারবেন না।