ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাজীপুরে গরুবাহী ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে অভিনেত্রী রিধিকার মরদেহ উদ্ধার অশোভন আচরণের অভিযোগে পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনাইয়ের সুলতান খারগ দ্বীপে আবারও ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তুলছে ইরান ইমাম-মুয়াজ্জিন-সেবায়েতদের সম্মানি বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধ, শ্রীপুরে সিএনজি চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী হরমুজ ঘিরে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ পশ্চিম তীরে সেটেলার সহিংসতা বাড়ছে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মদদের অভিযোগ অ্যামনেস্টির আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

খেলাধুলা যেভাবে ফুটবল প্রতিভার ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে ফ্রান্স

  • Arif
  • আপডেটের সময়: ০৬:১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ৮১ সময় দেখুন

বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে প্রতিভার ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফ্রান্স। সম্প্রতি বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার থমাস মুনিয়ে মন্তব্য করেন, ফ্রান্সের এমন প্রতিভা রয়েছে যে তারা তিনটি আলাদা দল গঠন করলেও বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে থাকতে পারে। মন্তব্যটি বিতর্কের জন্ম দিলেও ফরাসি ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতা সেই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেয় না।

ট্রান্সফার মার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের জাতীয় দলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়েই একটি শক্তিশালী দল গঠন সম্ভব। সেই দলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪১৮ মিলিয়ন ইউরো। যা পর্তুগাল, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়েও বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ডারউইনে তৃতীয় দিনেও দাপট বাংলাদেশের, চাপে অস্ট্রেলিয়া

এই সাফল্যের পেছনের গল্প শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন নতুন পথ খুঁজতে শুরু করে। তখন জাতীয় দলের কোচ জর্জ বুলোনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় ‘সঁত্র দ্য ফরমাসিওঁ’ বা বিশেষ ফুটবল একাডেমি।

সরকারও এই প্রকল্পকে সহায়তা করে। ১৯৭৪ সালে প্রথম একাডেমিটি চালু হয়। পরে সারা দেশে মোট ১৬টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের পাশাপাশি ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চল থেকেও তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রের লক্ষ্য ছিল পেশাদার ফুটবলার ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি করা।

আরও পড়ুনঃ  র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডের ৮ প্রশিক্ষিত কুকুর নিলামে বিক্রি, সর্বোচ্চ দর ২৬ হাজার টাকা

শুরুর সাফল্য খুব একটা ধারাবাহিক ছিল না। ১৯৮৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক স্বর্ণ জিতলেও ফ্রান্স ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। তবে ১৯৯৮ সালে সবকিছু বদলে যায়। বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক ‘ব্ল্যাক-ব্ল্যাঙ্ক-ব্যুর’ দল নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে।

৯৮-এর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দল
সাবেক গোলরক্ষক ও অধিনায়ক বার্নার্ড লামার মতে, সেই সাফল্যের মূল শক্তি ছিল একাডেমি ব্যবস্থা। পাশাপাশি অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান ফুটবলারদের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আফ্রিকা, ফরাসি গায়ানা ও মার্টিনিকের মতো অঞ্চল থেকে আসা পরিবারগুলো ফরাসি ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে উসমান ডেম্বেলে ও দেজিরে দুয়ের মতো অনেক খেলোয়াড় ফ্রান্সেই জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা এবং প্রাকৃতিক প্রতিভা দুটোই রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সালমান-শাবনূরের প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন নীলা চৌধুরী

ফ্রান্সের উন্নয়ন মডেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খেলোয়াড়কেন্দ্রিক পরিকল্পনা। খেলোয়াড়ই পুরো প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় না। এতে মানসিক বিকাশও ভালো হয়।

বর্তমানে শুধু একাডেমি নয়, প্যারিসের অসংখ্য বেসরকারি ও অপেশাদার ক্লাবও প্রতিভা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এসব খেলোয়াড়ই এখন ফ্রান্সকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিভার কারখানায় পরিণত করেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গাজীপুরে গরুবাহী ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

খেলাধুলা যেভাবে ফুটবল প্রতিভার ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে ফ্রান্স

আপডেটের সময়: ০৬:১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে প্রতিভার ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফ্রান্স। সম্প্রতি বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার থমাস মুনিয়ে মন্তব্য করেন, ফ্রান্সের এমন প্রতিভা রয়েছে যে তারা তিনটি আলাদা দল গঠন করলেও বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে থাকতে পারে। মন্তব্যটি বিতর্কের জন্ম দিলেও ফরাসি ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতা সেই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেয় না।

ট্রান্সফার মার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের জাতীয় দলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়েই একটি শক্তিশালী দল গঠন সম্ভব। সেই দলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪১৮ মিলিয়ন ইউরো। যা পর্তুগাল, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়েও বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ১২ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩ মরদেহ উদ্ধার

এই সাফল্যের পেছনের গল্প শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন নতুন পথ খুঁজতে শুরু করে। তখন জাতীয় দলের কোচ জর্জ বুলোনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় ‘সঁত্র দ্য ফরমাসিওঁ’ বা বিশেষ ফুটবল একাডেমি।

সরকারও এই প্রকল্পকে সহায়তা করে। ১৯৭৪ সালে প্রথম একাডেমিটি চালু হয়। পরে সারা দেশে মোট ১৬টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের পাশাপাশি ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চল থেকেও তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রের লক্ষ্য ছিল পেশাদার ফুটবলার ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি করা।

আরও পড়ুনঃ  স্ত্রীকে ঘরে তোলার স্বপ্ন ছিল, ফিরছেন লাশ হয়ে: নাটোরের সাব্বির

শুরুর সাফল্য খুব একটা ধারাবাহিক ছিল না। ১৯৮৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক স্বর্ণ জিতলেও ফ্রান্স ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। তবে ১৯৯৮ সালে সবকিছু বদলে যায়। বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক ‘ব্ল্যাক-ব্ল্যাঙ্ক-ব্যুর’ দল নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে।

৯৮-এর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দল
সাবেক গোলরক্ষক ও অধিনায়ক বার্নার্ড লামার মতে, সেই সাফল্যের মূল শক্তি ছিল একাডেমি ব্যবস্থা। পাশাপাশি অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান ফুটবলারদের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আফ্রিকা, ফরাসি গায়ানা ও মার্টিনিকের মতো অঞ্চল থেকে আসা পরিবারগুলো ফরাসি ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে উসমান ডেম্বেলে ও দেজিরে দুয়ের মতো অনেক খেলোয়াড় ফ্রান্সেই জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা এবং প্রাকৃতিক প্রতিভা দুটোই রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডের ৮ প্রশিক্ষিত কুকুর নিলামে বিক্রি, সর্বোচ্চ দর ২৬ হাজার টাকা

ফ্রান্সের উন্নয়ন মডেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খেলোয়াড়কেন্দ্রিক পরিকল্পনা। খেলোয়াড়ই পুরো প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের শিক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় না। এতে মানসিক বিকাশও ভালো হয়।

বর্তমানে শুধু একাডেমি নয়, প্যারিসের অসংখ্য বেসরকারি ও অপেশাদার ক্লাবও প্রতিভা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এসব খেলোয়াড়ই এখন ফ্রান্সকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিভার কারখানায় পরিণত করেছে।