গ্রামবাংলাকে দেশের শিকড়, শক্তি ও সম্ভাবনার আধার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নই দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন এবং উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পল্লী উন্নয়নে দক্ষ, সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
সোমবার (৬ জুলাই) ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রোববার (৫ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। কিন্তু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমিত বিকেন্দ্রীকরণের কারণে পল্লী অবকাঠামো ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে তিনি পল্লী অঞ্চলের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ১৯ দফা কর্মসূচি তৃণমূলের জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও গ্রামাঞ্চলের জনমুখী, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়ন, যুব ও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি ও অকৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন সরকারের উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করবে এবং পল্লী উন্নয়নের প্রতি জাতীয় অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে।
শেষে তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পল্লী উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করে একটি আধুনিক, উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভরশীল গ্রামবাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















