ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোবিন্দগঞ্জে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসচাপায় নিহত ১ চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৫১৯ জন মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার আহ্বান হাইকমিশনের লং মার্চের নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র নষ্টের চেষ্টা করছে: রিজভী জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাত, কমবে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ সংবাদ কনটেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে ওপেনএআই-মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা নাকভি থাকছেন ফাইনালে, ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও কি ট্রফি নেবে না? নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নতুন মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে বসুন্ধরা কিংস বিপিসির নতুন চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর হিমাগারে ৭৭ হাজার টন আলু নিয়ে শঙ্কা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৫১৯ জন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

চীন ও নেপাল সীমান্তের ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র জিরোং পোর্ট আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ কাদা-ধসে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনার ১১ দিন পরও চীনের অংশে শত শত মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষের চাপা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চীন সরকারের আয়োজিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে তারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র প্রত্যক্ষ করে।

পাঁচতলা ভবনও মিশে গেছে মাটিতে

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের একটি হিমবাহে ফাটল ধরে ধস নামে। এতে নদী অববাহিকায় বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে পরে আকস্মিক বন্যা ও কাদা-ধসের সৃষ্টি হয়।

পাহাড় থেকে তীব্র বেগে নেমে আসা পানির স্রোত প্রথমে চীন সীমান্তের পাঁচতলা সীমান্ত চেকপয়েন্ট ও প্রশাসনিক ভবনে আঘাত হানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পানির প্রবল স্রোত ধেয়ে আসার সময় মানুষ জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ছুটছিল।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

বর্তমানে ওই ভবনের কোনো অস্তিত্ব নেই। খননকাজের পর কেবল ভিত্তির কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। চেকপয়েন্টের পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সি, সুপারমার্কেট ও চীন-নেপাল সংযোগকারী সেতুটিও কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

চীনের অংশে নিখোঁজ ৫১৯ জন

চীনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় ৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫১৯ জন।

তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেন ওয়েই জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। দুই দেশের সীমান্ত মিলিয়ে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তথ্য চেয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তে চলছে পরীক্ষা

চীনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রকাশ না করায় পরিবার ও আন্তর্জাতিক মহলে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিব্বত কর্তৃপক্ষ বলছে, শুরু থেকেই প্রতিটি জীবনের তথ্য যাচাইয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিব্বতের জননিরাপত্তা বিভাগের নির্বাহী উপপরিচালক পু ওয়েইদং জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ ও তিনটি ল্যাবরেটরি সার্বক্ষণিক কাজ করছে। উদ্ধার করা অবশিষ্টাংশ, আঙুলের ছাপ, ডিএনএ এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড বিশ্লেষণ করে নিখোঁজদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদেশি নিখোঁজদের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পথচারীকে চাপা দিয়ে এতিমখানায় ঢুকে পড়ল বাস, নিহত নারী

প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

দুর্যোগের পরপরই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ উদ্ধারকারী দলকে পাহাড়ি পথ হেঁটে কিংবা আকাশপথে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে। গত বুধবার সড়ক আংশিক পরিষ্কার হওয়ার পর ভারী যন্ত্রপাতি উদ্ধারকাজে যুক্ত করা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান ইয়াং কিচিয়াও ও কর্মী ঝাং জিয়াওজুন জানান, কাদা, নুড়ি-পাথর, নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা এবং নদীর ওপর তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে হিমবাহ ধসের ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহে নতুন করে ধস নামার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তবে এই মুহূর্তে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য কাদার স্তর সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার করা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গোবিন্দগঞ্জে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসচাপায় নিহত ১

চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৫১৯ জন

আপডেটের সময়: ০৯:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীন ও নেপাল সীমান্তের ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র জিরোং পোর্ট আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ কাদা-ধসে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনার ১১ দিন পরও চীনের অংশে শত শত মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষের চাপা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চীন সরকারের আয়োজিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে তারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র প্রত্যক্ষ করে।

পাঁচতলা ভবনও মিশে গেছে মাটিতে

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের একটি হিমবাহে ফাটল ধরে ধস নামে। এতে নদী অববাহিকায় বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে পরে আকস্মিক বন্যা ও কাদা-ধসের সৃষ্টি হয়।

পাহাড় থেকে তীব্র বেগে নেমে আসা পানির স্রোত প্রথমে চীন সীমান্তের পাঁচতলা সীমান্ত চেকপয়েন্ট ও প্রশাসনিক ভবনে আঘাত হানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পানির প্রবল স্রোত ধেয়ে আসার সময় মানুষ জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ছুটছিল।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

বর্তমানে ওই ভবনের কোনো অস্তিত্ব নেই। খননকাজের পর কেবল ভিত্তির কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। চেকপয়েন্টের পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সি, সুপারমার্কেট ও চীন-নেপাল সংযোগকারী সেতুটিও কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

চীনের অংশে নিখোঁজ ৫১৯ জন

চীনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় ৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫১৯ জন।

তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেন ওয়েই জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। দুই দেশের সীমান্ত মিলিয়ে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  উইপোকার উৎপাতে মধ্যরাতে সার্কিট হাউস ছাড়লেন বিরোধীদলীয় উপনেতা

নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তে চলছে পরীক্ষা

চীনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রকাশ না করায় পরিবার ও আন্তর্জাতিক মহলে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিব্বত কর্তৃপক্ষ বলছে, শুরু থেকেই প্রতিটি জীবনের তথ্য যাচাইয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিব্বতের জননিরাপত্তা বিভাগের নির্বাহী উপপরিচালক পু ওয়েইদং জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ ও তিনটি ল্যাবরেটরি সার্বক্ষণিক কাজ করছে। উদ্ধার করা অবশিষ্টাংশ, আঙুলের ছাপ, ডিএনএ এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড বিশ্লেষণ করে নিখোঁজদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদেশি নিখোঁজদের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ইরাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যু, ২৫ দিন পর দেশে ফিরল রেজাউলের লাশ

প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

দুর্যোগের পরপরই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ উদ্ধারকারী দলকে পাহাড়ি পথ হেঁটে কিংবা আকাশপথে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে। গত বুধবার সড়ক আংশিক পরিষ্কার হওয়ার পর ভারী যন্ত্রপাতি উদ্ধারকাজে যুক্ত করা সম্ভব হয়।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান ইয়াং কিচিয়াও ও কর্মী ঝাং জিয়াওজুন জানান, কাদা, নুড়ি-পাথর, নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা এবং নদীর ওপর তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে হিমবাহ ধসের ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহে নতুন করে ধস নামার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তবে এই মুহূর্তে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য কাদার স্তর সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার করা।