রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়েনপুর আলীতলা দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকায় ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১৬ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১৭ জন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। গত বছর মাদ্রাসাটি ভালো ফলাফল অর্জন করেছে, যার মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসা চত্বরটি সবুজ গাছপালায় ঘেরা ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ। তবে শিক্ষা কার্যক্রমের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ ভবনের অভাব।
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা পুরনো মাটির দেয়াল ও জরাজীর্ণ টিনের ছাউনিযুক্ত কক্ষগুলোতে পাঠ গ্রহণ করছে। ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অনেক অংশ হেলে পড়েছে। ছাদের টিন মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পাঠদান ব্যাহত হয়, আর গরমের সময় টিনের ছাউনির কারণে অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিদিন ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আব্দুল হক বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু নিরাপদ ভবনের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি বহুতল ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এলাকাবাসীরও দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মো: এরশাদ আলী , স্টাফ রিপোর্টার 




















