ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি সার জব্দ, আটক ২ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে আশির দশকের ছবি তৈরির ট্রেন্ড, বানাবেন যেভাবে নবম পে-স্কেলের গেজেট কবে, ২০ গ্রেডে কার বেতন কত? ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ বখাটের উৎপাতের প্রতিবাদে নরসিংদীতে শিক্ষার্থীদের ২ কিলোমিটার পদযাত্রা প্রথম ওয়েব সিরিজেই রহস্যময় চরিত্রে পরিণীতি চোপড়া বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা ভুল আসন উল্লেখ করায় ডেপুটি স্পিকারকে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন বন্যাকবলিত নেপালের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি খেলতে চায় নেপাল ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, আমন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় ঢাকার অসন্তোষ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

টিকাদানে ঘাটতিতে ভয়াবহ রূপ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ সময় দেখুন

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া দেশটিতে চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৮৩৫ জনের হাম পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে ৯৯৯টি মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হলেও এর মধ্যে ১০০টি মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগীর চাপ, হাসপাতালের অতিরিক্ত ভিড় এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকার সরবরাহে সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এতে বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। এই বয়সের শিশুরা নিয়মিত হাম টিকা নেওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি।

আরও পড়ুনঃ  অক্টোবরের ডেঙ্গু ঝুঁকি, আগাম প্রতিরোধে জোর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

টিকাদানে ঘাটতিই বড় কারণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন সোমবার সংসদে জানান, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করায় আরও বেশি শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান সূচিতে বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

অথচ গত এক দশকে হাম নির্মূলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কিছুটা কমে যাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময় দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।

‘এত মৃত্যু আগে দেখিনি’

মহামারি বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ  দান করা সম্পত্তিতেও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগাধিকার, সংসদে বিল পাস

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে এত শিশুর হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানেন না। একইভাবে এক বছরে এত বিপুলসংখ্যক রোগীও দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় একটি অংশ শিশু।

তার মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকার আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

হাম-ডেঙ্গুর চাপে হাসপাতাল

হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের হাসপাতালগুলোও অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৫৭১ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মধ্যে দৈনিক হিসাবে দুটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা বলেন, রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে সবাইকে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা রয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেককে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩৫০ রোগীর জন্য নির্মিত হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  সবাই নিজেকে বদলালে সমাজ বদলে যাবে

এর মধ্যে শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক স্যালাইনের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিবারগুলোর জন্য এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, বারবার হাসপাতালে যাতায়াত এবং বাড়তি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা

জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জরুরি কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের জন্য ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচিও প্রয়োজন।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ

হাম ও ডেঙ্গুর এই দ্বৈত সংকট বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। একই সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা এবং প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। সাধারণত জ্বর ও শরীরে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে দুই ডোজ টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি সার জব্দ, আটক ২

টিকাদানে ঘাটতিতে ভয়াবহ রূপ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

আপডেটের সময়: ০৬:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া দেশটিতে চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৮৩৫ জনের হাম পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে ৯৯৯টি মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হলেও এর মধ্যে ১০০টি মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগীর চাপ, হাসপাতালের অতিরিক্ত ভিড় এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকার সরবরাহে সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এতে বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। এই বয়সের শিশুরা নিয়মিত হাম টিকা নেওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-নেপাল জলবায়ু সহযোগিতা

টিকাদানে ঘাটতিই বড় কারণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন সোমবার সংসদে জানান, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করায় আরও বেশি শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান সূচিতে বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

অথচ গত এক দশকে হাম নির্মূলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কিছুটা কমে যাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময় দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।

‘এত মৃত্যু আগে দেখিনি’

মহামারি বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ  সবাই নিজেকে বদলালে সমাজ বদলে যাবে

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে এত শিশুর হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানেন না। একইভাবে এক বছরে এত বিপুলসংখ্যক রোগীও দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় একটি অংশ শিশু।

তার মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকার আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

হাম-ডেঙ্গুর চাপে হাসপাতাল

হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের হাসপাতালগুলোও অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৫৭১ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মধ্যে দৈনিক হিসাবে দুটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা বলেন, রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে সবাইকে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা রয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেককে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩৫০ রোগীর জন্য নির্মিত হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  দান করা সম্পত্তিতেও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগাধিকার, সংসদে বিল পাস

এর মধ্যে শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক স্যালাইনের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিবারগুলোর জন্য এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, বারবার হাসপাতালে যাতায়াত এবং বাড়তি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা

জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জরুরি কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের জন্য ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচিও প্রয়োজন।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ

হাম ও ডেঙ্গুর এই দ্বৈত সংকট বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। একই সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা এবং প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। সাধারণত জ্বর ও শরীরে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে দুই ডোজ টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।