বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের করা যৌন হেনস্থার অভিযোগ একসময় ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রায় এক দশক আগের একটি ঘটনার কথা সামনে এনে অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের মার্চে মামলাটি নিষ্পত্তি করে আদালত। তবে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ করে এ রায় দেওয়া হয়নি।
২০০৮ সালের শুটিংয়ে কী ঘটেছিল?
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি গানের শুটিংকে কেন্দ্র করে ঘটনাটির সূত্রপাত। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, তাকে একক নাচের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন।
অভিনেত্রীর দাবি, নাচের অনুশীলনের সময় নানা তার হাত ধরে টানেন, ধাক্কা দেন এবং চিৎকার করেন। নাচের দৃশ্য পরিবর্তন করে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই গানের কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্যের বিরুদ্ধেও নানা পাটেকরকে সমর্থন করার অভিযোগ তোলেন তনুশ্রী।
পরিস্থিতির প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত শুটিং ছেড়ে চলে যান তিনি।
গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ
তনুশ্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুটিং ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়ি একদল লোক ঘিরে ধরে এবং ভাঙচুর করে। ওই ঘটনার সঙ্গে নানা পাটেকরের ঘনিষ্ঠদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
তবে ২০০৮ সালে পুলিশের কাছে করা অভিযোগে মূলত গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছিল। যৌন হেনস্থার অভিযোগটি তখন ওই অভিযোগের অংশ ছিল না বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০১৮ সালে আবারও আলোচনায় আসে ঘটনা
প্রায় ১০ বছর পর, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তনুশ্রী পুরোনো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন। তার অভিযোগ ঘিরে বলিউডে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে ভারতে #MeToo আন্দোলনও গতি পায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীরা নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্থা ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে শুরু করেন।
নানা পাটেকর অবশ্য শুরু থেকেই তনুশ্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে তনুশ্রীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
২০১৮ সালের অক্টোবরে মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। নানা পাটেকরের পাশাপাশি কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্যের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ও ৫০৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল।
তদন্তে প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ
২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশ জানায়, অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তনুশ্রী পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
এরপর মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালের মার্চে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ঘটনার প্রায় এক দশক পর মামলা দায়ের হওয়ায় তা আইন নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে ছিল। সে কারণে অভিযোগের মূল সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি আদালত।
অর্থাৎ, আদালতের এই নিষ্পত্তিকে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া কিংবা তনুশ্রীর অভিযোগ সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হওয়া—কোনোটিই বলা যায় না। পুলিশের তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার বক্তব্য এবং আদালতের সময়সীমাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ছিল পৃথক বিষয়।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবরের পর আবারও আলোচনায়
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তার দীর্ঘ অভিনয়জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে তনুশ্রীর পুরোনো অভিযোগও নতুন করে সামনে আসে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান তনুশ্রী। তিনি জানান, খবরটি শোনার পরও পূর্বনির্ধারিত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চান। লখনৌতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর এবং তনুশ্রীর প্রতিক্রিয়ার বিবরণ প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্যগুলো যাচাই করা জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই ঘটনায় মামলার আইনি নিষ্পত্তি হলেও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টি আলাদা করে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদকের নাম 

























