
আধুনিক সভ্যতার দ্রুত পরিবর্তনের ভেতরেও পরিবার মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জায়গা—এমনটাই তুলে ধরেছেন লেখক ড. আব্দুল ওয়াদুদ। আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস উপলক্ষে লেখা এক মতামতে তিনি বলেন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের প্রভাবে পরিবারের কাঠামো বদলেছে, তবে পরিবারের প্রয়োজনীয়তা কখনো কমেনি।
লেখক উল্লেখ করেন, পরিবারকে গুরুত্ব দিতে জাতিসংঘ ১৯৮০ সাল থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। পরে ১৯৯৪ সালকে আন্তর্জাতিক পরিবার বর্ষ ঘোষণা করা হয় এবং প্রতি বছর ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিবারকে সামাজিক স্থিতি, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
প্রবন্ধে পরিবারের ইতিহাস ও বিবর্তনের দিকও তুলে ধরা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবার ছিল প্রধান কাঠামো। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর মানুষ কাজের খোঁজে শহরমুখী হওয়ায় ধীরে ধীরে একক পরিবারের বিস্তার ঘটে। এতে যেমন নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে, তেমনি আত্মীয়তার বন্ধনও দুর্বল হয়েছে বলে মত লেখকের।
তিনি বলেন, আধুনিক নগরজীবনে বিবাহবিচ্ছেদ, একাকিত্ব, প্রবীণদের অবহেলা এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। যৌথ পরিবারের অভাব, ব্যস্ততা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবন মানুষকে পরিবার থেকেও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
লেখকের মতে, শহুরে জীবনে মানুষ ভিড়ের মাঝেও একা হয়ে পড়ছে। মানসিক চাপ, প্রতিযোগিতা ও বিচ্ছিন্নতা বাড়লেও দিন শেষে পরিবারই মানুষের একমাত্র মানসিক আশ্রয় হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে পরিবার ব্যবস্থাও বদলাবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে মানবিক সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সবকিছুর পরেও পরিবারই মানুষের শেষ ঠিকানা।
লেখক : ফিকামলি তত্ত্বের জনক, বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষক
প্রতিবেদকের নাম 


























