ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ছয় সপ্তাহে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন পুরোপুরি চালুর পরিকল্পনা সৌদি আরামকোর স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে আজ মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩২ বিলিয়ন ডলার ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবও ফিরিয়েছিলেন মেসি, বার্সেলোনায় থাকার ছিল অটুট ইচ্ছা ডোপ টেস্টের উদ্যোগের পর চাঁদপুরের এসআইয়ের খোঁজ মিলছে না কারাবাও কাপের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে রাতে মাঠে নামছে ম্যানসিটি হরমুজে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া সাত মাসে নারীদের ধর্ষণের ৪০০ ঘটনা, শিশু সহিংসতা ৬০৬ সকালের বৃষ্টিতে ঢাকায় স্বস্তি, কয়েক অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা শহীদ জুবায়েরের বোন জেসমিনের চিকিৎসার অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নয় মাসে খেলাপি ঋণের হার কমেছে প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের ফলে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের অনুপাত প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থাকা খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৬ সালের জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখনো উল্লেখযোগ্য। জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ শনাক্ত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই খেলাপি ঋণের অনুপাতে এ পরিবর্তন এসেছে। এতে একদিকে অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এলেও ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উত্থান-পতন জীবনেরই অংশ, নিজের আলো হারাতে নেই: পূর্ণিমা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে এসেছে।

তিনি জানান, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে তা সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে সংস্কারের পাশাপাশি ঋণ আদায় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণের অনুপাত কমার বর্তমান প্রবণতা ইতিবাচক হলেও এটিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকৃত খেলাপি ঋণ শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা টেকসই সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

আরও পড়ুনঃ  আশা এনজিওতে নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে

তাদের মতে, শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানোর পরিবর্তে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, গত নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি প্রাথমিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বুঝতে পরবর্তী সময়ের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ছয় সপ্তাহে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন পুরোপুরি চালুর পরিকল্পনা সৌদি আরামকোর

নয় মাসে খেলাপি ঋণের হার কমেছে প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট

আপডেটের সময়: ০৪:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের ফলে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের অনুপাত প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থাকা খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৬ সালের জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখনো উল্লেখযোগ্য। জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ শনাক্ত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই খেলাপি ঋণের অনুপাতে এ পরিবর্তন এসেছে। এতে একদিকে অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এলেও ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডোপ টেস্টে পজিটিভ, পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে এসেছে।

তিনি জানান, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে তা সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  উত্থান-পতন জীবনেরই অংশ, নিজের আলো হারাতে নেই: পূর্ণিমা

সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে সংস্কারের পাশাপাশি ঋণ আদায় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণের অনুপাত কমার বর্তমান প্রবণতা ইতিবাচক হলেও এটিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকৃত খেলাপি ঋণ শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা টেকসই সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

আরও পড়ুনঃ  মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

তাদের মতে, শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানোর পরিবর্তে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, গত নয় মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি প্রাথমিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বুঝতে পরবর্তী সময়ের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।