পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করে তা শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের পানিসংকট দূর করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আখচাষিদের প্রণোদনা, কৃষিঋণ মওকুফ
কৃষকদের সহায়তায় প্রায় চার হাজার আখচাষিকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে আগামী মৌসুমে তাঁদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগে দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
চলতি বছর ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কৃষি কার্ড
কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের অন্তত একটি ফসলের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।
এ ছাড়া কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ফসলের বিমা এবং ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন
দেশজুড়ে খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকেরা সেচের পানির সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি রাজশাহীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায়ও খাল খনন সহায়ক হতে পারে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা বাড়বে
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ করার পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।
এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরের জেলা সদর হাসপাতালে যেতে কম ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
জনসভায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালু করতে চায়।
কৃষকদের স্বাবলম্বী করা, শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমানের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবেদকের নাম 



















