ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর এক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসেবে দেখে না ইইউ। দুই পক্ষের মধ্যে আরও বিস্তৃত ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  চালুর ছয় মাসেই ট্রেনের ইন্টারনেট সরঞ্জাম চুরি

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ইইউ

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার এবং নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের পক্ষে ইইউর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কথাও তুলে ধরেন।

সুশাসন ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ

এফটিএ সফল করতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন মাইকেল মিলার। তিনি আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  চলন্ত বাসে সন্তান প্রসব, পরিবহনের নামে শিশুর নাম; আজীবন ফ্রি ভ্রমণের ঘোষণা

এ ছাড়া স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ অর্থনীতি, রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

বাড়াতে চায় ইউরোপীয় বিনিয়োগ

বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উন্নত মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। জনশাসন সংস্কারেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  দেশের প্রথম সরকারি ভবনভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনটির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। সোমবার সম্মেলনটি শেষ হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাহিদ হাসানকে ‘বাবা’ ডেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সুনেরাহর

বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ

আপডেটের সময়: ০৫:০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর এক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসেবে দেখে না ইইউ। দুই পক্ষের মধ্যে আরও বিস্তৃত ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  জেলা হাসপাতালে ১০ ও মেডিকেল কলেজে ৫০ ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ইইউ

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার এবং নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের পক্ষে ইইউর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কথাও তুলে ধরেন।

সুশাসন ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ

এফটিএ সফল করতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন মাইকেল মিলার। তিনি আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে যাচ্ছে ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালান

এ ছাড়া স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ অর্থনীতি, রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

বাড়াতে চায় ইউরোপীয় বিনিয়োগ

বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উন্নত মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। জনশাসন সংস্কারেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  চলন্ত বাসে সন্তান প্রসব, পরিবহনের নামে শিশুর নাম; আজীবন ফ্রি ভ্রমণের ঘোষণা

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনটির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। সোমবার সম্মেলনটি শেষ হবে।