ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আজানের পর যে দোয়া গুনাহ মোচনের কারণ মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে ‘ঘুষ.সাইট’ খুললেন কিশোর বাজারে সংকটের আগাম খবর দেবে টিসিবির এআই ব্যবস্থা নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ নভোএয়ারে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শৈলকুপায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পিকআপে থাকা ২০ জন আহত ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঐক্যের বার্তা রাজধানীতে রাতভর পুলিশের অভিযান, ৪৪২ গ্রেপ্তার; ইয়াবা-অস্ত্রসহ মাদক উদ্ধার জামালপুরে বাসের নিচে অটোরিকশা, প্রাণ গেল ৪ জনের; মহাসড়ক অবরোধ জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য থানায় রেখে নষ্ট করার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

ছোট ব্যবসার করের চাপ কমাতে এনবিআরের নতুন উদ্যোগ


বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাশাপাশি টার্নওভারের পরিমাণ অনুযায়ী স্লাবভিত্তিক করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে কোনো ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না।

অন্যদিকে, ২ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে ০.২৫ শতাংশ, ৩ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫০ শতাংশ এবং ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিগুলো বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার করই দেবে।

আরও পড়ুনঃ  খাদ্যগুদামে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর সরকার, ভাঙা হবে সিন্ডিকেট: খাদ্যমন্ত্রী

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। বর্তমানে এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

ছোট ব্যবসায় স্বস্তির আশা

এনবিআরের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ছোট ব্যবসা ও তুলনামূলক কম টার্নওভার করা কোম্পানির করের চাপ কমানো।

বর্তমানে কোনো ব্যবসা লাভ করুক বা লোকসানে থাকুক, টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম ১ শতাংশ কর দিতে হয়। ফলে কম মুনাফা করা কিংবা লোকসানে থাকা ব্যবসাগুলোর ওপরও করের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, দেশে যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

আরও পড়ুনঃ  নেপালে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা ৩৩২, নিখোঁজ ৯০০-এর বেশি

এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে কর আরোপ করা উচিত। ব্যবসার প্রকৃত মুনাফার ওপর কর নিশ্চিত করতে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিল করা প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, প্রস্তাবিত কর হ্রাস ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় ব্যবসার জন্য এই সুবিধা যথেষ্ট নয়।

অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে

এদিকে কিছু অংশীজন প্রস্তাবিত কর অব্যাহতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসার জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া হলে কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার নিচে থাকার জন্য প্রকৃত বিক্রি কম দেখাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরোধ মিটেছে, ‘ঘরের সমস্যা’ বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

কেন বাড়ছে টার্নওভার করের চাপ

এর আগে গত বছরের বাজেটে ন্যূনতম টার্নওভার কর ১ শতাংশ করা হয়। এতে কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা ব্যবসার করের বোঝা বেড়ে যায়।

এফবিসিসিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, কোনো ব্যবসার বার্ষিক বিক্রি ৫০ লাখ টাকা এবং মুনাফা ৫ শতাংশ হলে তার আয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার করের কারণে ওই ব্যবসাকে ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হয়।

একইভাবে, কোনো ব্যবসার বিক্রি ১ কোটি টাকা এবং মুনাফা ৫ লাখ টাকা হলে নিয়মিত আয়কর মাত্র ১০ হাজার টাকা হলেও টার্নওভার কর হিসেবে দিতে হয় ১ লাখ টাকা।

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ছোট ও কম টার্নওভার করা ব্যবসাগুলোর ওপর এই অতিরিক্ত করের চাপ অনেকটাই কমতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আজানের পর যে দোয়া গুনাহ মোচনের কারণ

বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

আপডেটের সময়: ১০:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ছোট ব্যবসার করের চাপ কমাতে এনবিআরের নতুন উদ্যোগ


বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাশাপাশি টার্নওভারের পরিমাণ অনুযায়ী স্লাবভিত্তিক করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে কোনো ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না।

অন্যদিকে, ২ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে ০.২৫ শতাংশ, ৩ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫০ শতাংশ এবং ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিগুলো বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার করই দেবে।

আরও পড়ুনঃ  বড় খেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলে বাড়তি সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। বর্তমানে এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

ছোট ব্যবসায় স্বস্তির আশা

এনবিআরের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ছোট ব্যবসা ও তুলনামূলক কম টার্নওভার করা কোম্পানির করের চাপ কমানো।

বর্তমানে কোনো ব্যবসা লাভ করুক বা লোকসানে থাকুক, টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম ১ শতাংশ কর দিতে হয়। ফলে কম মুনাফা করা কিংবা লোকসানে থাকা ব্যবসাগুলোর ওপরও করের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, দেশে যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

আরও পড়ুনঃ  অভিনেতা না হলে যে পেশায় যেতে চেয়েছিলেন অমিতাভ

এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে কর আরোপ করা উচিত। ব্যবসার প্রকৃত মুনাফার ওপর কর নিশ্চিত করতে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিল করা প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, প্রস্তাবিত কর হ্রাস ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় ব্যবসার জন্য এই সুবিধা যথেষ্ট নয়।

অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে

এদিকে কিছু অংশীজন প্রস্তাবিত কর অব্যাহতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসার জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া হলে কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার নিচে থাকার জন্য প্রকৃত বিক্রি কম দেখাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, কমেছে ৩৫ শতাংশ

কেন বাড়ছে টার্নওভার করের চাপ

এর আগে গত বছরের বাজেটে ন্যূনতম টার্নওভার কর ১ শতাংশ করা হয়। এতে কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা ব্যবসার করের বোঝা বেড়ে যায়।

এফবিসিসিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, কোনো ব্যবসার বার্ষিক বিক্রি ৫০ লাখ টাকা এবং মুনাফা ৫ শতাংশ হলে তার আয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার করের কারণে ওই ব্যবসাকে ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হয়।

একইভাবে, কোনো ব্যবসার বিক্রি ১ কোটি টাকা এবং মুনাফা ৫ লাখ টাকা হলে নিয়মিত আয়কর মাত্র ১০ হাজার টাকা হলেও টার্নওভার কর হিসেবে দিতে হয় ১ লাখ টাকা।

নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ছোট ও কম টার্নওভার করা ব্যবসাগুলোর ওপর এই অতিরিক্ত করের চাপ অনেকটাই কমতে পারে।