প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিকেল ৩টায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—বাংলাদেশে বাজেট কেন প্রায় সব সময় বৃহস্পতিবারই পেশ করা হয়?
কেন বৃহস্পতিবার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বাস্তব কারণ।
১. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশ্রামের সুযোগ
জাতীয় বাজেট প্রস্তুতের কাজে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় ধরে নিরলস পরিশ্রম করতে হয়। সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদের মতে, বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপন করলে পরের দুই দিন (শুক্রবার ও শনিবার) ছুটির সুযোগ থাকে, যা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
২. বাজেট বিশ্লেষণের অতিরিক্ত সময়
বাজেট ঘোষণার পর অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে নতুন প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করতে হয়। ছুটির এই দুই দিনে তারা বিষয়গুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ পান।
৩. সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতির সুবিধা
বাজেট উপস্থাপনের পর সম্পূরক বাজেট ও বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যরা যাতে বাজেটের খুঁটিনাটি পড়ে বুঝতে পারেন, সে জন্যও বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়। বৃহস্পতিবার বাজেট দিলে তারা দুই দিনের অতিরিক্ত সময় পান।
৪. অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানো
ড. আব্দুল মজিদের মতে, বাজেট ঘোষণার পরপরই যদি কর্মদিবস চলতে থাকে, তাহলে কেউ আগেভাগে পণ্য মজুত করা, শুল্ক ফাঁকি দেওয়া বা তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পরবর্তী ছুটির কারণে এমন সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে যায়।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য চিত্র
- মোট বাজেটের আকার: প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা
- রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা
- সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: ৬.৫ শতাংশ
- মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা: ৭.৫ শতাংশ
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি): প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা
- নিজস্ব অর্থায়ন: ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা
- বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ: ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা
এবারের বাজেট পাস হলে এটি হবে বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট, বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট। ফলে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিক থেকে এই বাজেটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















